ঝলমলে আলো, ক্যামেরা আর গ্ল্যামারের আড়ালেও থাকে ভালোবাসা, বিচ্ছেদ। সেই সত্যিটাই অকপটে জানালেন, বলিউড অভিনেত্রী অনন্যা পাণ্ডে। এক অনুষ্ঠানে বিচ্ছেদ যন্ত্রণা সামলানোর সহজ, একেবারে ব্যক্তিগত উপায় জানাতে গিয়ে তিনি বললেন, 'আমি কাঁদি, আইসক্রিম খাই, আর অরিজিৎ সিংয়ের দুঃখের গান শুনি… তারপর কিছুটা সময় গেলে নিজে থেকেই সব ভুলে যাই।'
অনন্যা পাণ্ডে। ছবি: সংগৃহীত
কথাগুলো শুনতে যতটা সাধারণ, অনুভব ততটাই গভীর। কথাগুলোর মধ্যে লুকিয়ে আছে একেবারে বাস্তব জীবনের অনুভব। কোনও সাজানো উপদেশ নয়, বরং নিজের অনুভূতিকে প্রাধান্য দেওয়া, কষ্টকে অস্বীকার না করে তার থেকে মুক্তির পথ খোঁজা, আর তারপর ধীরে ধীরে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা। বিচ্ছেদের যন্ত্রণা কাটানোর কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নেই, প্রত্যেকেই নিজের মতো করে পথ খুঁজে নেয়।
শুধু তাই নয়, নিজের অতীত সম্পর্ক নিয়ে উপলব্ধির কথাও শেয়ার করেছেন অনন্যা। একসময় তিনি সম্পর্কের মানুষটিকে বেশি জায়গা দিতে গিয়ে নিজেকেই ছোট করে ফেলেছিলেন, নিজের স্বভাব বদলে ফেলেছিলেন। এখন তিনি বুঝেছেন, ভালোবাসা মানে নিজেকে হারিয়ে ফেলা নয়। বরং নিজের জায়গা, নিজের সত্তাকে সম্মান করেই সম্পর্ক গড়ে তোলা জরুরি। একা থাকতে শেখা, নিজেকে ভালোবাসা- এই অভিজ্ঞতাই তাকে আরও পরিণত করেছে।
শুধু অপকার নয়, উপকারও আছে। ছবি: সংগৃহীত
সত্যিই কি মনখারাপের সঙ্গী হতে পারে আইসক্রিম?
মন খারাপের সময়ে এক স্কুপ আইসক্রিম যেন একটু সান্ত্বনা। ঠান্ডা, মিষ্টি স্বাদে মুহূর্তের মধ্যে মনটা শান্ত, হালকা হয়ে আসে। তবে এটাকে শুধু আনন্দের খাবার বললে কম বলা হয়, পরিমিত পরিমাণে খেলে শরীর ও মনের জন্য কিছু ইতিবাচক দিকও আছে।
মুড ভালো করতে সাহায্য করে
আইসক্রিমের মিষ্টি স্বাদ ও ঠান্ডা অনুভূতি মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের মতো 'ফিল-গুড' হরমোন নিঃসরণ বাড়াতে সাহায্য করে। তাই অল্প পরিমাণে খেলে মন হালকা লাগে, স্ট্রেস কিছুটা কমে।
দ্রুত এনার্জির উৎস
দুধ, চিনি ও ফ্যাটের সমন্বয়ে আইসক্রিম শরীরে দ্রুত গ্লুকোজ সরবরাহ করে। ক্লান্তি বা দুর্বলতার সময়ে তাৎক্ষণিক শক্তি পেতে এটি সহায়ক হতে পারে।
ক্যালসিয়াম ও হাড়ের যত্ন
কিছু আইসক্রিমের প্রধান উপকরণ দুধ। আর দুধ হল ক্যালসিয়ামের খুব ভালো উৎস। হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে যার রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বিশেষ করে বাড়ন্ত বয়স বা ক্যালসিয়াম ঘাটতিতে এটি সহায়ক হতে পারে।
প্রোটিনের সামান্য জোগান
দুধ ও ক্রিম থেকে কিছু পরিমাণ প্রোটিন পাওয়া যায়, যা পেশি ও কোষের গঠন ও মেরামতে ভূমিকা রাখে।
শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়ক
গরমের দিনে আইসক্রিম শরীরকে সাময়িকভাবে ঠান্ডা অনুভূতি দেয়, ফলে অস্বস্তি কমে ও আরাম লাগে।
মানসিক স্বস্তি
অনেক সময় প্রিয় খাবার মানসিকভাবে স্বস্তির অনুভূতি তৈরি করে। আইসক্রিম সেই জায়গাটা পূরণ করে, বিশেষ করে আবেগঘন সময়ে।
তবে মাত্রাতিরিক্ত নয়। ছবি: সংগৃহীত
সাবধানতা
- বেশি খেলে ওজন বাড়তে পারে
- অতিরিক্ত চিনি রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়াতে পারে
- নিয়মিত বেশি খেলে হজমের সমস্যা বা ফ্যাট জমার ঝুঁকি থাকে
তাই আইসক্রিম উপভোগ করুন, কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত নয়। মাঝে মাঝে, অল্প পরিমাণে খেলে এটি যেমন মন ভালো করে, তেমনই শরীরেও কিছু উপকার এনে দিতে পারে।
অনন্যার এই স্বীকারোক্তি, বিচ্ছেদ যন্ত্রণাকে এড়িয়ে নয়, তাকে অনুভব করেই ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে হয়। আর ঠিক সেই পথেই, এক সময় মন আবার সুস্থ, স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
