৫-৬টা রসগোল্লা খাওয়ার পর হঠাৎ হাত-পা অবশ হয়ে যায় ৩৫ বছরের যুবকের। শুধু একবার নয়, গত ছ'মাসে এমন ঘটনা ঘটেছে তিনবার। প্রথম দু'বার বিয়েবাড়িতে হওয়ায় তিনি ভেবেছিলেন এটি খাবারজনিত সমস্যা। কিন্তু পরে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে ধরা পড়ে এটি একটি বিরল রোগ। যার নাম হাইপোক্যালেমিক পিরিয়ডিক প্যারালাইসিস। নিউরোলজিস্টদের কথায়, খাদ্যাভ্যাস, হরমোন ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যের গড়মিলেই এমন সমস্যা হতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
হাইপোক্যালেমিক পিরিয়ডিক প্যারালাইসিস আসলে কী?
এটি এমন এক অবস্থা যেখানে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা হঠাৎ কমে গিয়ে শারীরিক দুর্বলতা বা সাময়িক পক্ষাঘাত দেখা দেয়। এই সমস্যা সাধারণত হঠাৎ শুরু হয় এবং কিছু সময় পরে আবার ঠিক হয়ে যায়। বিশেষ করে এশীয় পুরুষদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে এটি হাইপারথাইরয়েডিজমের সঙ্গে যুক্ত থাকে।
রসগোল্লা কেন ট্রিগার?
রসগোল্লা চিনি ও কার্বোহাইড্রেটে সমৃদ্ধ হওয়ায় একসঙ্গে বেশি খেলে দ্রুত রক্তে শর্করা বেড়ে যায়। এর ফলে ইনসুলিনের মাত্রা হঠাৎ বৃদ্ধি পায়, যা রক্ত থেকে পটাশিয়ামকে কোষের ভেতরে টেনে নেয়। এতে রক্তে পটাশিয়ামের ঘাটতি তৈরি হয়, যাকে হাইপোক্যালেমিয়া বলা হয়। এই অবস্থায় পেশির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়ে হঠাৎ দুর্বলতা বা পক্ষাঘাত দেখা দেয়।
বেশি নয়। ছবি: সংগৃহীত
লক্ষণ চিনবেন কীভাবে?
এই রোগে সাধারণত হঠাৎ হাত-পা অবশ হয়ে যায় এবং বারবার এমন ঘটনা ঘটতে পারে, বিশেষ করে খাওয়ার পর বা বিশ্রামের সময়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই অবস্থায় স্পর্শ বা ব্যথার অনুভূতি স্বাভাবিক থাকে। এই লক্ষণটি একে স্ট্রোক বা অন্য স্নায়ুর সমস্যার থেকে আলাদা করে।
কীভাবে রোগ ধরা পড়ে?
রোগ নির্ণয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল অসুস্থতার সময় রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা পরীক্ষা করা, যা সাধারণত কম থাকে। পাশাপাশি থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট করে হাইপারথাইরয়েডিজম আছে কি না দেখা হয়। তবে অসুস্থতার মুহূর্তে পরীক্ষা না করলে অনেক সময় রিপোর্ট স্বাভাবিক আসতে পারে, তাই সময়মতো পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি।
ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণের পথ
এই অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পটাশিয়াম দেওয়া হয়, যা ওরাল বা স্যালাইনের মাধ্যমে দেওয়া যেতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে হার্টের পর্যবেক্ষণও জরুরি হয়ে ওঠে। দীর্ঘমেয়াদে থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে তার চিকিৎসা করা, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা এবং ট্রিগার এড়িয়ে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিরোধে কী করবেন?
একসঙ্গে অতিরিক্ত মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেট খাওয়া এড়িয়ে চলা, সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং বারবার অকারণে দুর্বলতা অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। থাইরয়েড পরীক্ষা করানোও গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হতে পারে।
ভরপেট খাওয়ার পর বা শরীরচর্চার পরে হঠাৎ পক্ষাঘাতকে কখনওই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। সাধারণ একটি খাদ্যাভ্যাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে গুরুতর হরমোনজনিত সমস্যা। সময়মতো শনাক্ত করা গেলে হাইপোক্যালেমিক পিরিয়ডিক প্যারালাইসিস সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
