ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ থেকে বাঁচতে মশা প্রতিরোধক ক্রিম এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। ঘর হোক বা সন্ধ্যের হাঁটা, এই পণ্যগুলো যেন একরকম সুরক্ষা-কবচ। তবে এর ব্যবহার নিয়ে একটা প্রশ্ন ওঠে বারবার, এসব ক্রিম কি ত্বকের জন্য নিরাপদ? এতে থাকা রাসায়নিক বিপজ্জনক নয় তো? নাকি ভয়টা অযৌক্তিক?
মশা তাড়ানোর ক্রিম কতটা নিরাপদ?
ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক মশা প্রতিরোধক ক্রিমগুলো সাধারণত নিরাপদ, যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়। এগুলোতে ব্যবহৃত ডিইইটি, পিকারিডিনের মতো উপাদান বহু বছর ধরে গবেষণায় পরীক্ষিত এবং নির্দিষ্ট মাত্রায় ব্যবহার করলে তা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর নয়। জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকেও এগুলো অত্যন্ত কার্যকর সুরক্ষা দেয়।
ছবি: সংগৃহীত
ত্বকে কি কোনও প্রতিক্রিয়া হয়?
সব ক্রিমের মতোই মশা তাড়ানোর ক্রিমেও কারও কারও ক্ষেত্রে হালকা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সংবেদনশীল ত্বক বা একজিমা থাকলে সামান্য লালচে ভাব, চুলকানি বা র্যাশ দেখা দিতে পারে। তবে তা গুরুতর নয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিছু সময়ের মধ্যে নিজে থেকেই কমে যায়।
আসল ঝুঁকি কোথায়?
চিকিৎসকদের মতে, ত্বকের এই সামান্য প্রতিক্রিয়ার চেয়ে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি গুরুতর। এই রোগগুলো সময়মতো চিকিৎসা না হলে মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই প্রতিরোধক হিসেবে এই ক্রিম ব্যবহার না করার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
ভুল ব্যবহারেই সমস্যা বাড়ে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ সমস্যার মূল কারণ ক্রিম নয়, বরং তার ভুল ব্যবহার। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি লাগানো, কাটা বা জ্বালাযুক্ত ত্বকে ব্যবহার করা, অন্য স্কিনকেয়ারের সঙ্গে মিশিয়ে লাগানো বা বাইরে থেকে ফিরে ত্বক পরিষ্কার না করা, এই অভ্যাসগুলো ত্বকের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
হার্বাল পণ্য কি বেশি ভালো?
অনেকে মনে করেন হার্বাল বা প্রাকৃতিক পণ্য মানেই নিরাপদ। কিন্তু বাস্তবে এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। এই ধরনের রিপেলেন্ট সাধারণত কম সময় কাজ করে এবং বারবার ব্যবহার করতে হয়। পাশাপাশি, প্রাকৃতিক উপাদান থেকেও অ্যালার্জি হতে পারে। তাই ন্যাচারাল মানেই ঝুঁকিমুক্ত, এটা ভাবা ঠিক নয়।
নিরাপদ ব্যবহারের উপায়
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, মশা প্রতিরোধক ক্রিম ব্যবহার করার সময় পরিমিত পরিমাণে লাগানো উচিত এবং কাটা বা সংবেদনশীল ত্বক এড়িয়ে চলা দরকার। চোখ ও মুখের সংস্পর্শ এড়ানো জরুরি এবং এই ক্রিম মেখে বাইরে বের হলে, বাড়ি ফিরে অবশ্যই তা ধুয়ে ফেলতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহারের আগে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি।
কখন ব্যবহার বন্ধ করবেন?
যদি ক্রিম ব্যবহারের পর ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী চুলকানি, ফোলা, র্যাশ বা জ্বালাপোড়া দেখা যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করা উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।
মশা প্রতিরোধক ক্রিম সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ত্বকের জন্য বড় কোনও ক্ষতির কারণ হয় না। বরং ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার মতো বিপজ্জনক রোগ থেকে বাঁচতে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ভয় না পেয়ে সচেতনভাবে এবং নিয়ম মেনে ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
