এক গ্লাস ঠান্ডা পানীয় বা একটু এনার্জি ড্রিঙ্কস- দেখতে নিরীহ, স্বাদে মিষ্টি। কিন্তু সেই মিষ্টতার আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক অজানা ঝুঁকি! সাম্প্রতিক এক গবেষণা যেন সেই অদৃশ্য ঝুঁকির দিকেই আঙুল তুলল।
জার্নাল অফ হিউম্যান নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিক্স-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, যে সব সন্তানেরা নিয়মিত এই মিষ্টি পানীয়ে চুমুক দেন, তাদের মনে বাড়তে থাকে অ্যাংজাইটি বা উদ্বেগের ছায়া। পরিসংখ্য়ান বলছে, শুধু এই কোল্ড ড্রিঙ্কস আসক্তিই সন্তানদের মধ্যে অ্যাংজাইটির ঝুঁকি প্রায় ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
বোর্নমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ২০০০ থেকে ২০২৫, এই দীর্ঘ ২৫ বছরের নানা গবেষণা খুঁটিয়ে দেখেছেন। লক্ষাধিক তথ্যের ভিড়ে খুঁজে পেয়েছেন কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র, যেখানে একটা জিনিসই বারবার উঠে এসেছে, মিষ্টি পানীয় যত বেশি পান, মন তত বেশি অস্থির।
তবে অনেকেই এটা মানতে নারাজ। তাঁদের কথায় এ নিয়ে আরও গবেষণা দরকার। এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়। অর্থাৎ, ঠান্ডা পানীয়ই যে মানসিক সমস্য়া তৈরি করছে, তা নিশ্চিতভাবে বলার সময় এখনও আসেনি। তবে গবেষণায় উঠে আসা তথ্য়গুলোকে উপেক্ষা করাও কঠিন।
এতদিন চিনি মানেই ছিল শরীরের শত্রু, ওজন বাড়া, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, এই মিষ্টি আস্তে আস্তে মনের ওপরও প্রভাব ফেলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব বলছে, বিশ্বের প্রতি সাতজন কিশোর-কিশোরীর মধ্য়ে একজন অ্যাংজাইটির শিকার। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যেস, নিঃশব্দে ফেলছে বড় প্রভাব।
ছবি: সংগৃহীত
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মিষ্টি হঠাৎ করে রক্তে বাড়ায় শর্করার পরিমাণ, আবার দ্রুত তা নেমেও যায়। এই ওঠা-নামার খেলায় মস্তিষ্কে ডোপামিনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, আর সেই ভারসাম্য় নষ্টই অনেক সময় অ্যাংজাইটির সূত্রপাত করে।
মনে রাখুন, আমরা যা খাচ্ছি তার প্রভাব শুধু শরীরেই নয়, পড়ে মনের উপরও। কিশোর-কিশোরীদের সুস্থ মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য চিনি-যুক্ত ঠান্ডা পানীয়ের আসক্তি থেকে ওদের বের করে আনতেই হবে।
