সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ‘প্লাস্টিকের ডিম’ বা ‘ইনজেকশন দিয়ে লাল করা তরমুজ’-এর কি কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে? দেশের খাদ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএসএসএআই (FSSIA) বলছে, গুজব নয়, খাবার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভরসা রাখুন তথ্য ও বিজ্ঞানে।
গুজবে বাজার গরম, কিন্তু সত্যিটা কী?
সোশাল মিডিয়ায় প্রায়ই এমন ভিডিও বা পোস্ট ভাইরাল হয়, যেখানে দাবি করা হয় বাজারে প্লাস্টিকের ডিম বিক্রি হচ্ছে বা তরমুজের ভেতরে রাসায়নিক ইনজেক্ট করে তা লাল ও আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে। এই ধরনের ভিডিও দ্রুত ছড়ালেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার সত্যতা যাচাই করা হয় না। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয় অযথা আতঙ্ক।
সত্যিটা জানুন। ছবি: সংগৃহীত
‘প্লাস্টিকের ডিম’ কি আদৌ সম্ভব?
এফএসএসএআই জানিয়েছে, দেশে প্লাস্টিকের ডিম বিক্রির কোনও প্রমাণ তাদের কাছে নেই। অনেক সময় ডিমের কুসুমের গঠন, সাদা অংশের ঘনত্ব বা খোসার বৈশিষ্ট্য দেখে মানুষ সেটিকে নকল বলে সন্দেহ করেন। কিন্তু এগুলি ডিমের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যেই পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি আসল ডিমের মতো দেখতে, গন্ধযুক্ত এবং পুষ্টিগুণসম্পন্ন কৃত্রিম ডিম তৈরি করা যেমন জটিল, তেমনই ব্যয়বহুল। ফলে তা বাজারে বিক্রি করে লাভের সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে।
ডিমের সতেজতা পরীক্ষা করবেন কীভাবে?
এফএসএসএআই-এর পরামর্শ, ডিমের মান নিয়ে সন্দেহ হলে সহজ একটি পরীক্ষা করা যেতে পারে। একটি পাত্রে জল নিয়ে তাতে ডিম ফেলুন। তাজা ডিম সাধারণত জলের তলায় ডুবে যায়। অন্যদিকে পঁচা ডিম কিছুটা ভাসতে পারে। তবে ডিম ভেসে উঠলেই সেটি নকল বা প্লাস্টিকের, এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।
তরমুজে কি সত্যিই রং ইনজেক্ট করা হয়?
গরমে সবচেয়ে বেশি ছড়ানো গুজবগুলোর মধ্যে একটি হল তরমুজে লাল রং বা রাসায়নিক ইনজেক্ট করে তা বিক্রি করা হয়। এফএসএসএআই বলছে, এই দাবিরও কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
তাদের মতে, কোনও তরল রং ইনজেকশনের মাধ্যমে পুরো তরমুজের শাঁসে সমানভাবে ছড়িয়ে দেওয়া বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন। এমন কিছু করা হলে ফলের গায়ে ছিদ্র, ক্ষত বা পচনের চিহ্ন দেখা যাওয়ার কথা।
স্বাভাবিক না কৃত্রিম? ছবি: সংগৃহীত
তরমুজ এত লাল হয় কেন?
বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তরমুজের উজ্জ্বল লাল রঙের জন্য দায়ী লাইকোপিন নামের একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। ফল যত বেশি পরিপক্ব হয়, তার রং-ও তত গাঢ় হতে পারে। তাই শুধু লাল রং দেখেই সেটিকে কৃত্রিমভাবে রাঙানো হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
গুজব নয়, ভরসা রাখুন বিজ্ঞানে
খাবার নিয়ে ভুয়ো তথ্য এখন বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর একটি। যাচাইহীন ভিডিও বা পোস্ট অনেক সময় মানুষের মধ্যে এমন ভয় তৈরি করে, যার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।
এফএসএসএআই তাই সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলছে, কোনও চাঞ্চল্যকর দাবি দেখলেই তা বিশ্বাস না করে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য যাচাই করা জরুরি।
প্লাস্টিকের ডিম এবং ইনজেকশন দেওয়া তরমুজ নিয়ে যে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে, তার পক্ষে কোনও প্রমাণ নেই। তাই গুজব নয়, তথ্য ও বিজ্ঞানকেই গুরুত্ব দিন।
