হাঁসফাঁস করা দহনদিনে বরফ-ঠান্ডা জলে স্নান, শুনেই যেন স্বস্তি। শরীরে ঠান্ডা জল পড়লেই মনে হয়, গরম যেন এক নিমেষে উধাও। কিন্তু এই স্বস্তি বেশিক্ষণ টেকে না। বরং অজান্তেই শরীরের ভেতরে তৈরি হয় এক বিপরীত প্রতিক্রিয়া, যা গরম কমানোর বদলে কখনও কখনও তা বাড়িয়ে দেয়!
ঊর্ধ্বমুখী তাপমাত্রা সামলাতে শরীর যখন নিরন্তর কাজ করে চলে, সেই সময় আমরা যা-ই করি, তা যেন সেই প্রক্রিয়াকে সাহায্য করে, বাধা না দেয়।
ছবি: সংগৃহীত
মুহূর্তের ঠান্ডা, ভেতরে জমে থাকা গরম
ঠান্ডা জলে স্নান মুহূর্তে শরীরে আনে স্বস্তি। কিন্তু হঠাৎ তাপমাত্রা কমে গেলে শরীরে একটি প্রতিক্রিয়া হয়, রক্তনালী সঙ্কুচিত হয়ে যায়। যাকে বলে ভ্যাসোকনস্ট্রিকশন। এর ফলে ত্বকের দিকে রক্তপ্রবাহ কমে যায় এবং শরীরের ভেতরের তাপ বাইরে বেরোতে পারে না।
অর্থাৎ, বাইরে ঠান্ডা লাগলেও ভেতরে তাপ আটকে যায়, ফলে কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার গরম লাগতে শুরু করে।
হঠাৎ ঠান্ডা, শরীরের উপর ধাক্কা
তাপপ্রবাহের সময় শরীর আগেই ক্লান্ত থাকে। ব্যস্ত থাকে নিজের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে। এই অবস্থায় হঠাৎ বরফের মতো ঠান্ডা জলের সংস্পর্শে এলে, দেখা দিতে পারে একাধিক সমস্যা-
- মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা
- হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
- হঠাৎ রক্তচাপ ওঠানামা
- শরীরের স্বাভাবিক কুলিং প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়া
- গুরুতর ক্ষেত্রে এতে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ে
ছবি: সংগৃহীত
তাহলে আরাম পেতে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বরফ ঠান্ডা জলের বদলে ঈষদুষ্ণ বা কম ঠান্ডা জলে স্নান করাই ভালো। এতে শরীর ধীরে ধীরে তাপ ছাড়তে পারে, রক্তনালী থাকে স্বাভাবিক, আর শীতলতাও দীর্ঘস্থায়ী হয়।
গরমে সুস্থ থাকতে আরও কিছু
- বেশি করে জলপান করুন
- সুতির হালকা পোশাক পরুন
- ঘরের ভেতরে যাতে ভালোভাবে বাতাস চলাচল করতে পারে তার ব্যবস্থা রাখুন
- দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলুন
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
প্রবীণরা, ছোট শিশু, হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের রোগী এবং যাঁরা নিয়মিত কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ খান, তাঁদের জন্য হঠাৎ ঠান্ডা জলের ধাক্কা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সবচেয়ে জরুরি। ছবি: সংগৃহীত
বিজ্ঞান কী বলছে?
আমাদের শরীর থার্মোরেগুলেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ধীরে ধীরে ঠান্ডা হওয়া এই প্রক্রিয়াকে সাহায্য করে। কিন্তু হঠাৎ তীব্র ঠান্ডা লাগলে শরীর প্রতিরোধমূলক প্রতিক্রিয়া দেখায়, যা আসলে কুলিং প্রক্রিয়াকে বাধা দেয়।
গরমে 'যত ঠান্ডা তত ভালো', এই ধারণা সবসময় ঠিক নয়। বরং শরীরকে ধীরে ধীরে ঠান্ডা হতে সাহায্য করাই আসল লক্ষ্য। সঠিক পদ্ধতি মেনে চললে তাপপ্রবাহেও আপনি থাকতে পারবেন নিরাপদ ও স্বস্তিতে।
