shono
Advertisement
Soft Drinks

রোজ সফ্‌ট ড্রিঙ্কে চুমুক? অজান্তেই কমছে হাড়ের জোর! সুস্থ থাকতে করুন এই কাজটি

দিনে একাধিকবার বা নিয়মিত সফ্‌ট ড্রিঙ্ক পান করলে হাড়ের ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর পানীয়ের পরিবর্তে সফ্‌ট ড্রিঙ্ক বেছে নেওয়ার কারণে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকেও বঞ্চিত হয়।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 03:36 PM Jul 17, 2026Updated: 03:36 PM Jul 17, 2026

গরমে তেষ্টা মেটাতে বা খাবারের সঙ্গে এক গ্লাস সফ্‌ট ড্রিঙ্কে অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। শিশু থেকে প্রবীণ, প্রায় সব বয়সের মানুষের কাছেই এই পানীয় সমান জনপ্রিয়। কিন্তু প্রতিদিনের এই অভ্যাস শুধু ওবেসিটি বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকিই বাড়ায় না, ধীরে ধীরে হাড়ের শক্তিও কমিয়ে দিতে পারে, এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণা।

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চিনি, ক্যাফেইন এবং ফসফরিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ অ্যারেটেড পানীয় দীর্ঘদিন ধরে পান করলে হাড়ের খনিজ ঘনত্ব (বোন মিনারেল ডেনসিটি) কমে যেতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে অস্টিওপোরোসিস, ফ্রাকচার এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে নানা অস্থিরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।

কেন সফ্‌ট ড্রিঙ্ক হাড়ের জন্য ক্ষতিকর?
শরীরের হাড় মজবুত রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, ম্যাগনেসিয়াম এবং প্রোটিন। কৈশোর ও তরুণ বয়সে হাড় তার সর্বোচ্চ শক্তি অর্জন করে। এই সময়ের খাদ্যাভ্যাস ভবিষ্যতের হাড়ের স্বাস্থ্য অনেকটাই নির্ধারণ করে।

সফ্‌ট ড্রিঙ্কে থাকে অতিরিক্ত চিনি, ফসফরিক অ্যাসিড, ক্যাফেইন, কৃত্রিম স্বাদ ও রং এবং কার্বনেশন। এই উপাদানগুলি একসঙ্গে শরীরের পুষ্টির ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে হাড়কে দুর্বল করে দিতে পারে।

শুধু ডায়াবেটিস নয়, হাড়ের জন্যও ক্ষতিকর! ছবি: সংগৃহীত

কীভাবে ক্ষতি করে এই পানীয়?

ক্যালসিয়ামের ঘাটতি তৈরি করে
যাঁরা নিয়মিত সফ্‌ট ড্রিঙ্ক পান করেন, তাঁদের অনেকেই দুধ বা অন্যান্য ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ পানীয় কম পান করেন। ফলে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি তৈরি হয়, যা হাড়ের গঠন ও শক্তিকে প্রভাবিত করে।

ফসফরাস ও ক্যালসিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হয়
কোমল পানীয়ে থাকা ফসফরিক অ্যাসিড শরীরে ফসফরাসের মাত্রা বাড়িয়ে ক্যালসিয়ামের স্বাভাবিক ভারসাম্যে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এতে হাড়ের স্বাভাবিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

ক্যাফেইন বাড়ায় ক্যালসিয়ামের ক্ষয়
অনেক সফ্‌ট ড্রিঙ্কে থাকা ক্যাফেইন প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বেশি ক্যালসিয়াম বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চলতে থাকলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অতিরিক্ত চিনি বাড়ায় ঝুঁকি
অতিরিক্ত চিনি শুধু স্থূলত্ব বা ডায়াবেটিসের ঝুঁকিই বাড়ায় না, বরং হাড়ের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়াতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি সফ্‌ট ড্রিঙ্কের প্রতি নির্ভরশীলতাও বাড়িয়ে দেয়।

নীরবে এগোয় হাড়ের ক্ষয়। ছবি: সংগৃহীত

গবেষণায় কী উঠে এসেছে?
নিউট্রিশন রিসার্চ অ্যান্ড নিউট্রিয়েন্টস জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ও বেশি পরিমাণে সফ্‌ট ড্রিঙ্ক পানকারীদের হাড়ের খনিজ ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে কিশোর-কিশোরী এবং মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের মধ্যে। যদিও হাড়ের স্বাস্থ্য নির্ভর করে খাদ্যাভ্যাস, শরীরচর্চা, হরমোন এবং জীবনযাত্রার উপরও, তবু অতিরিক্ত সফ্‌ট ড্রিঙ্ক ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে গবেষকদের মত।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

  • কিশোর-কিশোরী, যাদের হাড়ের ঘনত্ব এখনও গড়ে উঠছে
  • মেনোপজ-পরবর্তী নারীরা
  • প্রবীণ ব্যক্তি, যাঁদের বয়সজনিত কারণে হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়েছে
  • যাঁদের খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি কম
  • যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না

হাড় দুর্বল হওয়ার লক্ষণ
হাড়ের ক্ষয় নিঃশব্দে এগোয়। তবে কিছু লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়।

  • বারবার ফ্র্যাকচার বা হাড় ভেঙে যাওয়া
  • দীর্ঘদিনের কোমর বা পিঠের ব্যথা
  • শরীর সামনের দিকে ঝুঁকে যাওয়া
  • হাতের গ্রিপ বা শক্তি কমে যাওয়া

এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত অর্থোপেডিক চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

সচেতন হওয়াই শ্রেয়। ছবি: সংগৃহীত

দিনে কতটা সফ্‌ট ড্রিঙ্ক ক্ষতিকর?
এর নির্দিষ্ট কোনও নিরাপদ সীমা এখনও নির্ধারিত হয়নি। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে একাধিকবার বা নিয়মিত সফ্‌ট ড্রিঙ্ক পান করলে হাড়ের ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর পানীয়ের পরিবর্তে সফ্‌ট ড্রিঙ্ক বেছে নেওয়ার কারণে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকেও বঞ্চিত হয়।

কী করবেন?
হাড় সুস্থ রাখতে সফ্‌ট ড্রিঙ্কের পরিবর্তে দুধ, টকদই, লস্যি, ডাবের জল বা সাধারণ জল পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, রোদে কিছুটা সময় কাটানো এবং ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি।

এক-দু'দিন সফ্‌ট ড্রিঙ্ক পান করলে বড় ক্ষতি নাও হতে পারে। কিন্তু প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে গেলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে হাড়ের উপর পড়তে পারে। তাই আজকের ছোট্ট সচেতনতাই ভবিষ্যতে আপনাকে অস্টিওপোরোসিস ও ফ্র্যাকচারের মতো বড় সমস্যা থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement