shono
Advertisement
Heart Attack

হার্টে স্টেন্ট বসিয়েছেন? এই একটি ভুলেই বাড়তে পারে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি

স্টেন্ট একটি জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা, কিন্তু এটি হৃদ্‌রোগের শেষ চিকিৎসা নয়।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 08:53 PM Jul 15, 2026Updated: 08:53 PM Jul 15, 2026

বুকে তীব্র ব্যথা বা হার্ট অ্যাটাকের পর স্টেন্ট বসানো অনেকের কাছেই যেন নতুন জীবনের শুরু। স্টেন্ট বসানোর পর ফেরা যায় স্বাভাবিক জীবনেও। আর তখনই অনেকের মনে জন্ম নেয় একটি ভুল ধারণা, 'স্টেন্ট বসেছে, এবার আর হার্ট অ্যাটাকের ভয় নেই।'

Advertisement

কিন্তু বাস্তব বলছে অন্য কথা। হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টেন্ট জীবন বাঁচাতে পারে, কিন্তু হৃদ্‌রোগ সারিয়ে দেয় না। তাই স্টেন্ট বসানোর পরও ভবিষ্যতে আবার হার্ট অ্যাটাক হতে পারে, যদি রোগের মূল কারণগুলো নিয়ন্ত্রণে না রাখা হয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, স্টেন্টকে কখনও স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি ধমনীর একটি বন্ধ অংশ খুলে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক করে, কিন্তু ধমনীর ভেতরে চর্বি জমে ব্লক তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া থামাতে পারে না।

স্টেন্ট বসানোর পরও জরুরি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। ছবি: সংগৃহীত

ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বা নিয়মিত ওষুধ না খাওয়ার মতো কারণগুলো যদি থেকে যায়, তাহলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অন্য ধমনীতেও ব্লক তৈরি হতে পারে।

সহজভাবে বলতে গেলে, বাড়ির জলের পাইপের একটি অংশ পরিষ্কার করলেই যেমন পুরো পাইপ আর কখনও বন্ধ হবে না, তেমনই স্টেন্ট একটি ব্লক সরালেও হৃদ্‌যন্ত্রের অন্য ধমনীগুলোতে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

কেন আবার হার্ট অ্যাটাক হতে পারে?
স্টেন্ট বসানোর পরও কয়েকটি কারণে ঝুঁকি থেকে যায়। এর মধ্যে একটি হল রিস্টেনোসিস, যেখানে স্টেন্টের ভেতরে ক্ষত সারানোর সময় অতিরিক্ত টিস্যু তৈরি হলে রক্ত চলাচলের পথ আবার সংকুচিত হতে পারে। আধুনিক স্টেন্টে এই ঝুঁকি অনেক কম হলেও পুরোপুরি দূর হয়নি।

আরও গুরুতর সমস্যা হল স্টেন্ট থ্রম্বোসিস। এতে স্টেন্টের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধে, যা মুহূর্তের মধ্যে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রক্ত পাতলা রাখার ওষুধ বন্ধ করে দিলে এই ঝুঁকি বেড়ে যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় করোনারি আর্টারি ডিজিজ একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। তাই একটি ধমনীতে স্টেন্ট বসানো হলেও অন্য ধমনীগুলোতে নতুন করে প্লাক জমে আবার হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

স্টেন্ট। ছবি: সংগৃহীত

স্টেন্ট বসানোর পর কী কী নিয়ম মেনে চলবেন?
স্টেন্ট বসানোর পর চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ একদিনও নিজের ইচ্ছায় বন্ধ করা যাবে না। ধূমপান সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে হবে। প্রতিদিন স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার খেতে হবে, নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়মিত পরীক্ষা করে নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। নির্দিষ্ট সময় অন্তর কার্ডিওলজিস্টের কাছে ফলোআপ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এই লক্ষণগুলো দেখলে দেরি নয়
স্টেন্ট বসানোর পর আবার যদি বুকে চাপ বা ব্যথা হয়, শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, অতিরিক্ত ঘাম হয়, মাথা ঘোরে, অজ্ঞান হয়ে যান, হাতে ব্যথা চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়ে বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব করেন, তাহলে এক মুহূর্তও দেরি করবেন না। দ্রুত নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। কারণ হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিটই অত্যন্ত মূল্যবান।

হার্টকে সুস্থ রাখতে জরুরি নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস। ছবি: সংগৃহীত

মনে রাখবেন
স্টেন্ট একটি জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা, কিন্তু এটি হৃদ্‌রোগের শেষ চিকিৎসা নয়। দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে হলে ওষুধ নিয়মিত খাওয়া, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। হৃদ্‌যন্ত্রকে ভালো রাখতে স্টেন্টের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ আপনার প্রতিদিনের অভ্যাস।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement