কথায় বলে, বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। কিন্তু সেই উৎসবের সঙ্গে যখন মিলেমিশে যায় সমাজসেবা আর মানবিকতার পাঠ, তখন তা সত্যিই অনন্য। ১ জুলাই দেশের অন্যতম সেরা চিকিৎসক তথা পশ্চিমবঙ্গের রূপকার ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের জন্ম ও প্রয়াণ দিবস। একই মাসে মহাপ্রভুর রথযাত্রা। এই দুই প্রেক্ষাপটকে এক সুতোয় বেঁধে অভিনব উদ্যোগ নিল সেরাম থ্যালাসেমিয়া প্রিভেনশন ফেডারেশন। শহরের ব্যস্ত রাজপথে নামল এক অন্য ধারার 'জীবন দেবতা রথ'।
এই রথের মূল চালিকাশক্তি মানবসেবা, ঠিক যে মন্ত্রে আজীবন বিশ্বাসী ছিলেন স্বয়ং বিধানচন্দ্র রায়। চাকার ওপর ভর করে শহরের অলিতে-গলিতে ঘুরল এই রথ। প্রতিমা বা দেববিগ্রহ নয়, এতে স্থান পেয়েছিল কিংবদন্তি চিকিৎসকের আবক্ষ মূর্তি। সেখানেই শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে শুরু হয় পরিক্রমা। তবে এটি স্রেফ কোনও শোভাযাত্রা ছিল না, ছিল আক্ষরিক অর্থেই এক চলন্ত চিকিৎসাকেন্দ্র।
পথচলতি মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে এবং তাৎক্ষণিক পরিষেবা দিতে রথের সঙ্গেই যুক্ত ছিল একটি সুসজ্জিত অ্যাম্বুলেন্স। সেখান থেকেই বিনা খরচে মেপে দেওয়া হল রক্তের শর্করা, রক্তচাপ ও অক্সিজেনের মাত্রা। এমনকী প্রয়োজন অনুযায়ী করা হল ইসিজি-ও। শহরের নানা প্রান্তের ক্লাব প্রাঙ্গণে পৌঁছাল এই 'অন্য রথ'। সেখানেও সাধারণ মানুষের জন্য হাত বাড়িয়ে দিলেন উদ্যোক্তারা।
সাধারণত রথযাত্রা বললেই মনে ভেসে ওঠে প্রভুর কৃপা আর প্রসাদ বিতরণের দৃশ্য। কিন্তু এই রথের প্রসাদ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। তা হল সুস্থ জীবনের প্রতিশ্রুতি। সংস্থার সম্পাদক সঞ্জীব আচার্যের কথায়, সারাবছরই থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা গড়ে তুলতে কাজ করেন তারা। কিন্তু ডাঃ রায়ের আদর্শকে পাথেয় করে এবার সাধারণ মানুষের জন্য এই ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবার আয়োজন। ঐতিহ্য অনুযায়ী উলটো রথ থাকলেও, জনকল্যাণে নিবেদিত এই জীবন দেবতা রথের কিন্তু কোনও বিপরীত পথ নেই। এই পথচলা শুধুই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার।
