shono
Advertisement
Toothache

দাঁতের ব্যথাকে হালকাভাবে নিচ্ছেন? মস্তিষ্কের জটিলতায় হতে পারে মৃত্যুও!

বিরল কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে মস্তিষ্কেও পৌঁছে যেতে পারে। তখন ব্রেন অ্যাবসেস বা মেনিনজাইটিসের মতো প্রাণঘাতী জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 06:44 PM Jul 16, 2026Updated: 07:33 PM Jul 16, 2026

দাঁতে ব্যথা (Toothache), মাড়ি ফুলে যাওয়া বা দাঁতে পুঁজ জমার মতো সমস্যাকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই অবহেলা কখনও কখনও মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংক্রমণ দাঁত বা মাড়িতেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে বিরল কিছু ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে মস্তিষ্কেও পৌঁছে যেতে পারে। তখন ব্রেন অ্যাবসেস বা মেনিনজাইটিসের মতো প্রাণঘাতী জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

Advertisement

দাঁতের সংক্রমণ কীভাবে মস্তিষ্কে পৌঁছায়?
দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করালে দাঁতের সংক্রমণের ব্যাকটেরিয়া রক্তপ্রবাহ বা মুখ ও চোয়ালের টিস্যুর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে। মুখের কিছু শিরায় ভালভ না থাকায় ব্যাকটেরিয়া খুলির দিকেও চলে যেতে পারে। যদিও এই ঘটনা খুবই বিরল, তবু এমন ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

কী ধরনের জটিলতা হতে পারে?
সংক্রমণ মস্তিষ্কে পৌঁছালে সেখানে পুঁজ জমে ব্রেন অ্যাবসেস তৈরি হতে পারে। এছাড়া মেনিনজাইটিস, অর্থাৎ, মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডকে ঘিরে থাকা আবরণের সংক্রমণও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ রক্তের মাধ্যমে সারা শরীরে ছড়িয়ে সেপসিসের মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতিও তৈরি করতে পারে। এই প্রতিটি অবস্থাই জরুরি পরিস্থিতি।

অবহেলা নয়। ছবি: সংগৃহীত

কারা বেশি ঝুঁকিতে?
যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস রয়েছে, অথবা দীর্ঘদিন দাঁতের সংক্রমণ, দাঁতে পুঁজ বা মাড়ির রোগের চিকিৎসা করান না, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ধরনের জটিলতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। কারণ, শরীরের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা কমে গেলে ব্যাকটেরিয়া সহজেই শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কোন লক্ষণগুলোকে অবহেলা করবেন না?
দীর্ঘস্থায়ী দাঁতের ব্যথা, মাড়ি বা চোয়াল ফুলে যাওয়া, পুঁজ বের হওয়া, জ্বর, গিলতে অসুবিধা বা মুখ পুরোপুরি খুলতে না পারা দাঁতের সংক্রমণের সাধারণ লক্ষণ। কিন্তু এর সঙ্গে যদি তীব্র মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব, বমি, দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন, খিঁচুনি বা চোখের চারপাশে ফোলাভাব দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এগুলি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত হতে পারে।

কীভাবে রোগ ধরা পড়ে?
মস্তিষ্কে সংক্রমণের সন্দেহ হলে চিকিৎসকেরা রোগীর শারীরিক পরীক্ষা করার পাশাপাশি সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করান। মেনিনজাইটিসের আশঙ্কা থাকলে লাম্বার পাংচারের মাধ্যমে মেরুদণ্ডের তরল পরীক্ষা করা হয়। দ্রুত রোগ নির্ণয় হলে চিকিৎসাও দ্রুত শুরু করা যায়, যা রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।

বছরে অন্তত একবার চেকআপ। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসা কী?
সংক্রমণ যদি শুধু দাঁতে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে আক্রান্ত দাঁতের চিকিৎসা, পুঁজ বের করে দেওয়া এবং প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়াই যথেষ্ট। কিন্তু সংক্রমণ মস্তিষ্কে পৌঁছে গেলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। অনেক সময় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ব্রেন অ্যাবসেস থেকে পুঁজ বের করতে হয় এবং শিরার মাধ্যমে শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।

কীভাবে ঝুঁকি এড়াবেন?
চিকিৎসকদের মতে, দাঁতের সমস্যার দ্রুত চিকিৎসাই এই বিরল কিন্তু মারাত্মক জটিলতা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার রাখা, ক্যাভিটি বা মাড়ির রোগের চিকিৎসা করানো এবং বছরে অন্তত একবার দন্ত চিকিৎসকের কাছে পরীক্ষা করালে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

দাঁতের ব্যথাকে কখনও ছোট সমস্যা ভেবে অবহেলা করবেন না। অনেক সময় এটিই শরীরে বড় কোনও সংক্রমণের প্রথম সতর্কবার্তা হতে পারে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement