রাত পেরলেই রথযাত্রা। রথযাত্রাকে ঘিরে যখন পুরীর পথে লাখো ভক্তের ঢল নামার অপেক্ষা, ঠিক তখনই কোভিড-১৯ নিয়ে বাড়তি সতর্কতার পথে হাঁটল ওড়িশা সরকার। প্রতিবেশী অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুতে সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে রথযাত্রার আগে রাজ্যজুড়ে নজরদারি, হাসপাতালের প্রস্তুতি এবং সমাগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও সজাগ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য একটাই, ভিড়ের মধ্যে যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে রথযাত্রার মতো বিশাল জনসমাগমে শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস দ্রুত ছড়ানোর আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই এবার উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপরও জোর দিচ্ছে প্রশাসন।
স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
রথযাত্রার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মুকেশ মহালিংয়ের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানে জেলার কোভিড পরিস্থিতির উপর নজরদারি বাড়ানো, সম্ভাব্য সংক্রমণ মোকাবিলায় হাসপাতালগুলিকে প্রস্তুত রাখা, পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করা এবং রথযাত্রার সময় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শহরের হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল, কমিউনিটি হেলথ সেন্টার এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলিকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার জানিয়েছে, সম্ভাব্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো রাজ্যে রয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।
জনসমাগম। ছবি: সংগৃহীত
কেন বাড়ে সংক্রমণের ঝুঁকি?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভিডকে আর বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যে জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে না দেখলেও ভাইরাসটি এখনও পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। রথযাত্রার মতো উৎসবে একসঙ্গে বিপুল মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘ দূরত্বের যাতায়াত, ভিড়ের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান এবং বিভিন্ন রাজ্য ও বিদেশ থেকে আগত মানুষের মেলামেশা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক, ক্রনিক ডিজিজে ভোগা ব্যক্তি এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
কারা বেশি সতর্ক থাকবেন?
- ৬০ বছরের বেশি বয়সিরা
- ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগে আক্রান্তরা
- ক্যানসার রোগী বা যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম
- গর্ভবতী মহিলারা
- সম্প্রতি অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তিরা
রথযাত্রায় যাওয়ার আগে জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে ভিড় এড়িয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
মাস্কেই সুরক্ষা। ছবি: সংগৃহীত
রথযাত্রায় কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?
শুধু পুরীর রথযাত্রা নয়, যে কোনও ভিড় বা জনসমাগমে অংশ নিলে কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। নিয়মিত হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজার ব্যবহার, ভিড় বা বদ্ধ জায়গায় মাস্ক পরা, কাশি-হাঁচির সময় মুখ-নাক ঢেকে রাখা, অসুস্থ ব্যক্তির কাছাকাছি না যাওয়া, পর্যাপ্ত জল পান করা এবং অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা জরুরি। রথযাত্রা শেষে অসুস্থ বোধ করলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। যাঁদের কোভিড ভ্যাকসিন বা বুস্টার নেওয়ার সময় হয়েছে, তাঁদের তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সতর্ক থাকুন, আতঙ্কিত নয়
ওড়িশা সরকারের এই উদ্যোগ মূলত আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। রাজ্যে বড় ধরনের কোভিড সংক্রমণের ইঙ্গিত নয়, বরং প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে আরও মজবুত করার প্রচেষ্টা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি এবং সময়মতো চিকিৎসা নিলেই নিরাপদে রথযাত্রার আনন্দ উপভোগ করা সম্ভব।
