বলিপাড়ায় ফিটনেস আইকন বললেই যাঁদের নাম সবার আগে মনে আসে, তাঁদের মধ্যে দিশা পাটানী (Disha Patani) অন্যতম। ৩৩ বছরের এই অভিনেত্রীর টানটান মেদহীন শরীর অনেকের কাছেই ঈর্ষণীয়। তবে এই ছিপছিপে শরীরের নেপথ্যে কেবল জিম বা কঠোর পরিশ্রম নয়, রয়েছে সুশৃঙ্খল জীবনযাপন এবং নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস। দিশা বিশ্বাস করেন, দিনের শুরুটা সঠিক পথে হওয়া সবচেয়ে জরুরি। আর তাই ঘুম থেকে উঠে তিনটি বিশেষ পানীয়ে চুমুক দিয়েই তাঁর দিন শুরু হয়।
অভিনেত্রীর সকাল শুরু হয় ‘গোল্ডেন ড্রিঙ্ক’ বা হলুদ-জল দিয়ে। দিশার মতে, হলুদের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এরপর তিনি খান এক কাপ বিশেষ ভেষজ চা। আদা, দারুচিনি বা ক্যামোমাইল সমৃদ্ধ এই চা শুধু গলার জন্যই ভালো নয়, এটি শরীরকে সতেজ রাখে। বিপাকীয় হার উন্নত করে। শেষে তিনি পান করেন ২-৩ গ্লাস সাধারণ পানীয় জল। দীর্ঘক্ষণ ঘুমের পর শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা এবং শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য।
অনেকেই খাবারে নিত্যনতুন স্বাদ খোঁজেন। কিন্তু দিশা ব্যতিক্রম। তিনি বছরের পর বছর একই খাবার একই রেসিপিতে খেয়ে আসছেন। তাঁর প্রাতরাশে থাকে ডিমের সঙ্গে পাউরুটি বা ভাত। দুপুরের খাবারে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট এবং প্রচুর শাকসব্জি। রাতেও একই ঘরানার পুষ্টিকর খাবার। দিশার মতে, এই পুনরাবৃত্তিই তাঁর সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি। দিনে তিন থেকে চার বার ভারী খাবার খান তিনি, যাতে অসময়ে খিদে না পায়।
ভারোত্তোলন থেকে কিক বক্সিং, কার্ডিয়ো থেকে জিমন্যাস্টিক— দিশার শরীরচর্চার তালিকায় বৈচিত্রের শেষ নেই। তবে সপ্তাহে একদিন, অর্থাৎ রবিবার তিনি নিজেকে একটু ছাড় দেন। সেদিন মিষ্টি বা চকোলেট খেয়ে নিজের স্বাদকোরককে তৃপ্ত করেন অভিনেত্রী। পরিশ্রম এবং শৃঙ্খলার এই ভারসাম্যই দিশাকে বলিউডের অন্যতম ফিট তারকা করে তুলেছে।
