সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কর্মব্যস্ত জীবন। বহু কর্মরতই এখন কেনা খাবারের উপর ভরসা করেন বেশি। এক ক্লিকে অর্ডার করলেই বাড়িতে এসে হাজির খাবার। কখনও কখনও অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে খাবার বাড়িতে এসে পৌঁছয়। তার উপর আবার এখন বহু গেরস্থের রান্নাঘরে জায়গা করে নিয়েছে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল। তাতে খাবার দীর্ঘক্ষণ রেখে দেন কেউ কেউ। আবার কখনও মাইক্রোওয়েভে কোনও খাবার বেক করার ক্ষেত্রেও ফয়েল ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফয়েলেই ওঁৎ পেতে আছে বিপদ। নিত্যদিনের এই অভ্যাসই নাকি একদিন আপনার বিপদ ডেকে আনতে পারে। নানা শারীরিক সমস্যারও কারণ হয়ে উঠতে পারে এই অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল। এখনই সতর্ক না হলে পরে আর আফশোস করা ছাড়া কোনও উপায় থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলমশলাযুক্ত কিংবা নোনতা খাবারের ক্ষেত্রে ফয়েল সবচেয়ে বেশি মারাত্মক ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে। বিশেষত যে খাবারে লেবু, ভিনিগারের ব্যবহার বেশি তা অ্য়ালুমিনিয়াম ফয়েলে রেখে মাইক্রোওয়েভে না দেওয়াই ভালো। সমীক্ষা বলছে, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে রাখা খাবার খেলে পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বয়সের তুলনায় আগেই হাড় ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। কিডনির সমস্যাও নতুন কিছু নয়। কারও কারও ক্ষেত্রে স্নায়ুরোগও হতে পারে।
এই সমস্ত শারীরিক সমস্যা থেকে রেহাই পেতে তাই অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ব্যবহারের উপর সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। নইলে বিপদের আশঙ্কাই বেশি। তাই ফয়েল ব্যবহার আগে জেনে নিন চিকিৎসকদের মত।
* অ্যাসিডিক, নোনতা, মশলা দেওয়া খাবার ফয়েলে রাখবেন না।
* পরিবর্তে কাচ, সেরামিক কিংবা স্টিলের বাসন ব্যবহার করুন।
* ফয়েলে রেখে যদি খাবার বেক কিংবা গ্রিল করেন তাহলে অবশ্যই বাটার বা বেকিং পেপার ব্যবহার করতে পারেন। খাবার এবং অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের মাঝে বাটার বা বেকিং পেপার রাখতে হবে। তাতে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কম।
* অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মাইক্রোওয়েভে খুব বেশি তাপমাত্রায় রান্না করবেন না।
* ভুল করেও একই অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল একাধিকবার ব্যবহার করবেন না।
চিকিৎসকদের মতে, আজকাল সোশাল মিডিয়ায় বিভিন্ন রান্নাবান্নায় অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ব্যবহারের চল দেখা যায়। ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে আপনি ভুল করবেন না। পরিবর্তে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল ব্যবহারের আগে সতর্কতা মেনে চলুন।
