সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পূর্ব ভারতে আধুনিক চিকিৎসার ইতিহাসে ডিসান হসপিটাল এক অনন্য আস্থার নাম। আন্তর্জাতিক মানের ‘জেসিআই’ (JCI) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই প্রতিষ্ঠানটি রোগী নিরাপত্তা ও উন্নত পরিষেবায় বিশ্বমানের নজির গড়েছে। সম্প্রতি সেই সাফল্যের ইতিহাসে যুক্ত হল আরও এক গাথা।
মাত্র ১৬ বছর বয়সী বিদ্যা কুমারী এক অত্যন্ত বিরল ও জটিল সমস্যা নিয়ে ডিসানে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর সমস্যা ছিল ‘রিফ্র্যাক্টরি হাইপারটেনশন’। বিভিন্ন চিকিৎসা ও ওষুধেও
তাঁর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছিল না। পরীক্ষা করে রোগীর শরীরের নিম্নাংশে নাড়ির স্পন্দন খুঁজে পাননি চিকিৎসকরা। রোগটি ছিল ‘মিডল থোরাসিক সিনড্রোম’। অর্থাৎ হার্টের রক্তবাহী নালীর (অ্যাওর্টা) প্রায় ১৫০ মিলিমিটার অংশ অত্যন্ত সরু হয়ে গিয়েছিল। এমন অবস্থায় রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠা প্রায় অসম্ভব।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের অসাধ্য সাধনে একজোট হলেন ডিসানের বিশেষজ্ঞ টিম। বিশিষ্ট চিকিৎসকরা আলোচনার পর ‘এন্ডোভাসকুলার রিপেয়ার’ পদ্ধতি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। ডঃ সৌম্যজিৎ ঘোষের নেতৃত্বে কার্ডিওথোরাসিক সার্জারি টিম অস্ত্রোপচারের পথ সুগম করেন। এরপর ডঃ অভীক কারক ও ডঃ বিয়াস সামন্ত ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি টিমের সহায়তায় নিখুঁতভাবে ‘স্টেন্ট গ্রাফ্ট’ বসান। ফ্লোরোস্কোপিক নির্দেশনায় এই অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও আধুনিক পদ্ধতির প্রয়োগে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক হয়।
অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হতে শুরু করে বিদ্যা কুমারী। বর্তমানে তাঁর রক্তচাপ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। মাত্র দুটি ওষুধেই তিনি সুস্থ রয়েছেন। ‘টাকায়াসু আর্টারাইটিস’ আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে এই ধরনের জটিল এন্ডোভাসকুলার রিপেয়ার ডিসান হসপিটালে এই প্রথম। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আর দক্ষ চিকিৎসকদের মেলবন্ধনে ডিসান হসপিটাল আবারও প্রমাণ করল, সেরা চিকিৎসাই তাদের মূল লক্ষ্য।
ওয়েবসাইট: https://desunhospital.com/
