সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাইরের ধোঁয়া আর ধুলোবালি থেকে বাঁচতে আমরা ঘর বন্ধ করে রাখি। ভাবি, ঘরের ভেতর বুঝি আমরা খুব নিরাপদ। কিন্তু এই ধারণা কি সত্যিই ঠিক? মেদান্তা হাসপাতালের বিশিষ্ট বক্ষ বিশেষজ্ঞ ডঃ হর্ষ বর্ধন পুরীর মতে, ঘরের ভেতরের বাতাস অনেক সময় বাইরের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। নিজের অজান্তেই ঘরে বসে বিষাক্ত শ্বাস টেনে ফুসফুস ভরিয়ে ফেলতে পারি আমরা। কীভাবে?
মশার হাত থেকে বাঁচতে আমরা অনেকেই রাতে ঘরে কয়েল জ্বালাই। ডঃ পুরী এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, বন্ধ ঘরে একটি মশার কয়েল জ্বালানো মানে প্রায় ১০০টি সিগারেট খাওয়ার সমান দূষণ তৈরি করা। এই ধোঁয়া থেকে যে সূক্ষ্ম বিষাক্ত কণা বের হয়, তা সরাসরি ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই বাতাস গ্রহণ করলে ফুসফুসের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।
ট্রাফিক বা কারখানার দূষণ চোখে দেখা যায়। কিন্তু রান্নার ধোঁয়া, ধূপকাঠি বা কয়েলের দূষণ অনেকটা অদৃশ্য। ঠিকমতো হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে এই দূষিত কণাগুলো ঘরের ভেতর আটকা পড়ে। ঘুমের সময় আমরা টানা ৮-১০ ঘণ্টা এই বাতাস নিই। ফলে ফুসফুস কোনও বিশ্রাম পায় না। এখান থেকেই শুরু হয় দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসকষ্ট।
অনেকে ভাবেন দু-চারটি ইনডোর প্ল্যান্ট রাখলেই বুঝি ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ হয়ে যায়। ডঃ পুরী বলছেন, ঘরকে আস্ত জঙ্গল না বানালে শুধু কয়েকটি গাছ দিয়ে বাতাস পুরোপুরি পরিষ্কার করা সম্ভব নয়। এয়ার পিউরিফায়ার কিছুটা সাহায্য করলেও তার ক্ষমতা সীমিত। তাই সুস্থ থাকতে ঘরের ভেন্টিলেশন বা হাওয়া চলাচলের দিকে নজর দেওয়া সবচেয়ে জরুরি। নিরাপদ থাকতে কয়েলের বদলে মশারি ব্যবহার করুন। ঘরের ভেতরের বাতাসকে যতটা সম্ভব ধোঁয়ামুক্ত রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
