গ্রীষ্মকালে তো রোজই পাতে টক দই থাকে বাঙালির। কিন্তু হুট করে বর্ষাকাল এসে পড়ে যখন, তখনও কি টক দই খাওয়া চলে? অনেকেই অভ্যাসবশে দই বাদ দিতে চান না পাত থেকে। অনেকে আবার মনে করেন, বর্ষায় দই খেলে পেটের সমস্যা হয়। সংক্রমণও হয়ে যেতে পারে। সত্যিটা কি? গৃহস্থের পাতে কি তবে বর্ষাকালে দই থাকা উচিত, নাকি একেবারেই নয় (Safe to Eat Curd During Monsoon?)?
রয়ে যায় অসুস্থতার ঝুঁকি?
গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্টদের মতে, টাটকা দই খেলে পেটের সমস্যা কিংবা সর্দি হয়—এমন কোনও প্রমাণ নেই। এমন ধরনের রোগ মূলত ভাইরাসের কারণে হয়, দই খাওয়ার কারণে নয়। সঠিকভাবে তৈরি ও সংরক্ষণ করা তাজা দই বর্ষাকালেও খাওয়া যেতে পারে। দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। একটি সুস্থ ‘গাট মাইক্রোবায়োম’ (gut microbiome) হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখে।
টাটকা টক দইয়ের মতোই এ সময় খাওয়া যেতে পারে ছাঁচ বা টক-মিষ্টি বাটারমিল্ক। দইয়ে প্রোবায়োটিকের পাশাপাশি প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামও রয়েছে। সুষম খাবারের অংশ হিসেবে দই খেলে শরীর পুষ্টি পায়। দই সরাসরি সর্দি লেগে যাওয়ার জন্য দায়ী নয়। তবে যদি কেউ ফ্রিজ থেকে বের করেই খুব ঠান্ডা দই খান, তবে সেক্ষেত্রে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে।
বর্ষায় দই খাওয়ার সময় কী কী খেয়াল রাখবেন?
বর্ষাকালে আর্দ্রতা বেশি থাকায় খাবার দ্রুত নষ্ট হতে পারে। ফাঙ্গাসের পরতও পড়তে পারে তাতে। তাই দই যেন তাজা হয় এবং তৈরি ও সংরক্ষণের সময় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা হয়— সে বিষয়ে নজর দিতে হবে। টক গন্ধ, অস্বাভাবিক রং বা স্বাদের পরিবর্তন হলে সেই দই না খাওয়াই ভালো। দীর্ঘক্ষণ বাইরে রাখা দইয়ের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা দরকার।
কারা সতর্ক থাকবেন?
যাদের দুধ বা দুগ্ধজাত খাবারে ‘ইনটলারেন্স’ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বর্ষাকালে দই খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। একইভাবে কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসাজনিত কারণে চিকিৎসক যদি দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলতে বলে থাকেন, তাহলে সেই পরামর্শই মেনে চলা উচিত।
