বর্ষার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। দিল্লিতে একদিকে যেমন ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে এইচ১এন১ (H1N1) বা সোয়াইন ফ্লু-র সংক্রমণও। রাজধানীর হাসপাতালগুলিতে বর্তমানে ১,৩৮৯ জন ডেঙ্গু এবং ১,৩৪৪ জন এইচ১এন১ আক্রান্তের চিকিৎসা চলছে। যদিও স্বস্তির খবর, এখনও পর্যন্ত এই দুই সংক্রমণে কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবুও চিকিৎসকদের মতে, পরিস্থিতিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
ডেঙ্গু আক্রান্ত ১,৩৮৯, দিল্লির বাসিন্দাই ১,১৭৯
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির বাসিন্দা ১,১৭৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বাইরের রাজ্য থেকে আসা আরও ২১০ জন রোগী। ফলে মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৩৮৯।
ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাল সংক্রমণ, যা সংক্রমিত এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমণের চার থেকে দশ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে উপসর্গ না থাকলেও, কারও হঠাৎ তীব্র জ্বর, অসহ্য মাথাব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা, পেশি ও অস্থিসন্ধিতে যন্ত্রণা, বমি, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে র্যাশ দেখা দেয়।
বর্ষায় সংক্রমণের বাড়বাড়ন্ত। ছবি: সংগৃহীত
জ্বর কমলেও বিপদ কাটে না
বেশিরভাগ রোগী এক থেকে দু-সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে জ্বর সেরে যাওয়ার পরেও কিছু সতর্ক সংকেত দেখা দিতে পারে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা, নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত, বমি বা পায়খানায় রক্ত, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে গেলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি। কারণ এগুলি গুরুতর ডেঙ্গুর লক্ষণ হতে পারে।
ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ নেই। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, বেশি করে তরল পান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। সাধারণত অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন এড়িয়ে চলতে বলা হয়, কারণ এগুলি রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এইচ১এন১ আক্রান্তও ১,৩৪৪
ডেঙ্গুর পাশাপাশি দিল্লিতে এইচ১এন১ বা সোয়াইন ফ্লু-র আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়ে ১,৩৪৪ হয়েছে। যদিও এই সংক্রমণেও এখনও পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর নেই।
এইচ১এন১ হল ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের একটি ধরন। এটি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সহজেই এক ব্যক্তি থেকে অন্যের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত হঠাৎ জ্বর, শুকনো কাশি, গলা ব্যথা, নাক দিয়ে জল পড়া, মাথাব্যথা, পেশিতে ব্যথা এবং প্রচণ্ড দুর্বলতা এই রোগের প্রধান উপসর্গ।
লক্ষণকে অবহেলা নয়। ছবি: সংগৃহীত
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
গর্ভবতী মহিলা, পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু, ৬৫ বছরের বেশি প্রবীণ, দীর্ঘদিন অসুখে ভোগা ব্যক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন মানুষ এবং কেমোথেরাপি নিচ্ছেন যাঁরা—তাঁদের ক্ষেত্রে এইচ১এন১ গুরুতর আকার নিতে পারে। তাই এ ধরনের কারও উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
প্রতিরোধেই সুরক্ষা
ডেঙ্গু এড়াতে বাড়ির আশপাশে জল জমতে না দেওয়া, শরীর ঢাকা পোশাক পরা, মশা প্রতিরোধক ব্যবহার এবং মশারি টাঙিয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে, এইচ১এন১ প্রতিরোধে হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখা, কাশি-হাঁচির সময় মুখ-নাক ঢেকে রাখা, অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে থাকা এবং প্রতি বছর ফ্লু টিকা নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বর্ষাকালে ডেঙ্গু ও ইনফ্লুয়েঞ্জা—দুই সংক্রমণই দ্রুত ছড়াতে পারে। তাই আতঙ্ক নয়, সচেতনতা, উপসর্গ সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং সময়মতো চিকিৎসাই এই দুই রোগ থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
