মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হচ্ছে 'আমেরিকান হার্ট মান্থ'। ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে সাধারণের মধ্যে হৃদরোগের সচেতনতা বাড়াতে এই আয়োজন। তবে, শুধু আজকের দিন নয়, নিজেকে সুস্থ রাখতে প্রতিটি দিন গুরুত্বপূর্ণ। আপনার হৃদযন্ত্র ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা বাড়িতে বসেই মাত্র ৫ সেকেন্ডে বুঝে নেওয়া সম্ভব। আধুনিক জীবনযাত্রায় হৃদরোগ এখন সাইলেন্ট কিলার। অনেক সময় শ্বাসকষ্ট বা ক্লান্তির মতো উপসর্গগুলিকে আমরা বার্ধক্যের লক্ষণ ভেবে ভুল করি। এখানেই দাওয়াই হতে পারে ‘৫ সেকেন্ড লেগ টেস্ট’।
ফাইল ছবি
ঠিক কী এই পরীক্ষা? ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন এবং বিভিন্ন চিকিৎসা সংক্রান্ত পোর্টালে এই স্ক্রিনিং পদ্ধতিটি জনপ্রিয় হয়েছে। এটি মূলত নিম্নাঙ্গে তরল জমেছে কি না, তা বোঝার একটি দ্রুত উপায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় একে ‘এডিমা’ বলা হয়।
কীভাবে করবেন এই পরীক্ষা?
পদ্ধতিটি অত্যন্ত সহজ। প্রথমে আরাম করে শুয়ে পড়ুন। এবার একটি পা হার্টের সমান স্তরে উঁচুতে তুলে ধরুন। অন্তত ৫ সেকেন্ড এই অবস্থায় রাখুন। এরপর পা নামিয়ে নিন। যদি দেখেন পা নামানোর সঙ্গে সঙ্গেই গোড়ালি বা পায়ের পাতায় ফোলাভাব ফিরে আসছে, তবে বুঝতে হবে রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা রয়েছে।
অন্য একটি পদ্ধতিতে আঙুল দিয়ে পায়ের ত্বকে বা শিন-বোনের ওপর ৫ সেকেন্ড চেপে ধরতে হয়। আঙুল সরিয়ে নেওয়ার পর যদি সেখানে গর্ত বা টোল পড়ে থাকে, তবে তাকে ‘পিটিং এডিমা’ (Pitting Edema) বলা হয়। এটি হার্ট বা কিডনির সমস্যার বড় সংকেত হতে পারে।
ফাইল ছবি
কেন এই ফোলাভাব? হৃদযন্ত্র যখন রক্ত পাম্প করতে হিমশিম খায়, তখন শিরায় রক্ত জমে চাপ তৈরি হয়। এই চাপের ফলে রক্তনালী থেকে তরল বেরিয়ে আশপাশের কোষে বা টিস্যুতে জমা হয়। একেই ‘কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিওর’-এর লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়। এনএইচএস-এর মতে, সাধারণত সকালে এই ফোলাভাব কম থাকলেও বেলা বাড়লে তা বাড়তে থাকে।
মনে রাখবেন, ৫ সেকেন্ডের এই পরীক্ষাটি কোনও চূড়ান্ত রোগ নির্ণয় নয়। এটি কেবল একটি প্রাথমিক সতর্কবার্তা। যদি এই পরীক্ষায় অস্বাভাবিক কিছু ধরা পড়ে, তবে দেরি না করে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
