মারণ রোগের করাল থাবাকে উপেক্ষা করে ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা। তাঁদের চোখেমুখে এখন নতুন করে বাঁচার অঙ্গীকার। সোমবার ‘বিশ্ব ক্যানসার দিবস’ উপলক্ষ্যে সেই লড়াকু যোদ্ধাদেরই কুর্নিশ জানাল কলকাতার ডিসান হাসপাতাল। ক্যানসার জয়ীদের অদম্য সাহসের কাহিনি আর সচেতনতার বার্তার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সচেতনতার বার্তা দিয়ে দিনটি পালন করল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
এ দিনের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ক্যানসার জয়ীদের সংবর্ধনা। নিজেদের লড়াই ও ফিরে আসার অভিজ্ঞতার কথা শোনান তাঁরা। সেই সঙ্গে ছিল ক্যানসার সচেতনতায় এক অভিনব উদ্যোগ। ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সি পুরুষদের জন্য বিনামূল্যে প্রস্টেট ক্যানসার স্ক্রিনিং-এর ব্যবস্থা করা হয়। ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একজোট হওয়ার শপথ নিয়ে আকাশে ওড়ানো হয় রঙিন বেলুন।
এ দিনের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল ক্যানসার জয়ীদের সংবর্ধনা
চিকিৎসকদের মতে, ক্যানসার মানেই জীবনের শেষ নয়। বরং প্রাথমিক স্তরে রোগ ধরা পড়লে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব। এই বিষয়ে আলোকপাত করে ডিসান হাসপাতালের সিনিয়র মেডিক্যাল ডিরেক্টর ডাঃ সুজয়রঞ্জন দেব বলেন, "সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে স্ক্রিনিং প্রাণ বাঁচাতে পারে। ক্যানসার নিয়ে সামাজিক জড়তা কাটিয়ে সময়মতো পরীক্ষা করানো জরুরি।" অনুষ্ঠানে হাসপাতালের একঝাঁক বিশিষ্ট ক্যানসার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের একঝাঁক বিশিষ্ট ক্যানসার বিশেষজ্ঞ
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সচেতনতাই এই রোগের বিরুদ্ধে সেরা হাতিয়ার। জেসিআই (JCI) এবং এনএবিএইচ (NABH) স্বীকৃত এই হাসপাতালে উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে ক্যানসার চিকিৎসার সব রকম সুযোগ রয়েছে। কলকাতার পাশাপাশি শিলিগুড়িতেও তাঁদের শাখা হাসপাতাল উত্তরবঙ্গের রোগীদের ভরসা জোগাচ্ছে।
কলকাতার পাশাপাশি শিলিগুড়িতেও ডিসানের শাখা হাসপাতাল রোগীদের ভরসা জোগাচ্ছে
এ দিনের অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ক্যানসার জয়ীদের সম্মিলিত উপস্থিতি এক ইতিবাচক বার্তা দেয়। ক্যানসারকে ভয় নয়, বরং সাহস ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমেই যে জয় করা সম্ভব— অনুষ্ঠান শেষে সেই সুরই প্রতিধ্বনিত হল সকলের কণ্ঠে।
ওয়েবসাইট: https://desunhospital.com/
