নিরন্তর ইঁদুর দৌড়ের জীবনে এক মুহূর্ত থেমে বিশ্রাম নেওয়ার অবকাশ বুঝি নেই মানুষের কাছে। ঘুম ভেঙে উঠে থেকে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত কেবল দায়িত্ব পালন। ক্লান্তির পারদ মাথা ছুঁয়ে গেলেও সুস্থতা নিয়ে ভাবার মতো সময় কোথায়? চিকিৎসকেরা হয়তো বলবেন, শরীর মন সচল রাখতে অত্যন্ত জরুরি নিয়মিত ধ্যান করা। ব্যায়াম যেমন দেহকে সক্রিয় রাখে, মনকে সক্রিয় রাখতে তেমনই গুরুত্বপূর্ণ গভীর মনঃসংযোগ। কিন্তু সকালে উঠেই একরাশ দায়িত্ব এসে পড়ে যদি, ঘণ্টাব্যাপী ধ্যান করার সময় পাওয়া যাবে কীভাবে?
আনন্দের অনুভূতি হয়, অকারণ দুশ্চিন্তাও যেন অনেকখানি লাঘব হয়।
বিশেষজ্ঞরা কিন্তু বলছেন অন্য কথা। তাঁদের মতে, কেবলমাত্র এক মিনিটই যথেষ্ট। দিনের শুরুতে এক মিনিটের ধ্যানেই (one minute meditation) বদলে যেতে পারে সারাদিনের ভাগ্য। চোখ বন্ধ করে ওই ষাট মিনিট একাগ্রচিত্তে মনোনিবেশ করতে হবে। মনে মনে বলতে হবে, দিনটা কেমনভাবে কাটাতে চাই। যা পেয়েছি, তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতেও ভুললে চলবে না। এই সামান্য কাজের সুফল সুদূরপ্রসারী।
১। এর ফলে সারাদিন পজিটিভ মনোভাব ধরে রাখা সহজ হয়। হয়তো প্রথম কদিনে এর প্রভাব তেমন টের পাওয়া যাবে না। কিন্তু কিছুদিন গেলেই বোঝা যাবে, সত্যি বদলাচ্ছে মানসিকতা।
২। ব্যস্ত জীবনে প্রায়শই মনঃসংযোগের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি আমরা। খেয়াল করলেই বুঝতে পারব, এখন আর আগের মতো বই পড়তে পারি না। কোনও কাজের দায়িত্ব নিলে, বারবারই লক্ষ্যচ্যুত হই। এক মিনিটের ধ্যান যদি টানা কিছুদিন ধরে করে যাওয়া যায়, তবে ‘ফোকাস’ করার ক্ষমতা বাড়ে। একাগ্রতা সহজ হয়।
৩। যে অবসাদ দিন-মাস পেরিয়ে আছন্ন করে রেখেছে আজকাল, তা আপনা থেকেই হালকা হয়ে যায়। মনের ভিতর আনন্দের অনুভূতি হয়। অকারণ দুশ্চিন্তাও যেন অনেকখানি লাঘব হয়।
মন শান্ত হলে আচমকাই লক্ষ্য করবেন, শারীরিক সমস্যাও কখন যেন গায়েব হয়েছে!
৪। প্রভাবিত হয় শরীরও। হয়তো এতদিন ভাবছিলেন, শরীরের যাবতীয় ব্যথা বেদনা কেবল পরিশ্রমেরই ফল। মন শান্ত হলে আচমকাই লক্ষ্য করবেন, শারীরিক সমস্যাও কখন যেন গায়েব হয়েছে! আসলে মনের স্ট্রেস দেহ আপনা থেকেই শোষণ করে নেয়। মানসিক শান্তি তা মুক্ত করতে সাহায্য করে।
৫। রাগ কমে, উদ্বেগ কমে। অন্যদের সঙ্গে কেমনভাবে ব্যবহার করছেন, তা বদলে যায় এক সময়। ফলত আশেপাশের মানুষদের সঙ্গে সম্পর্কের ধরনে পরিবর্তন আসে। পজিটিভিটি অনুভূত হয় সবক্ষেত্রেই। আর এভাবে জীবনের সামগ্রিক মানোন্নয়ন ঘটান সম্ভবপর হয়।
