বয়ঃসন্ধির দ্রুত বৃদ্ধির সময় অলক্ষ্যেই কি বেঁকে যাচ্ছে সন্তানের শিরদাঁড়া? অনেক ক্ষেত্রেই অভিভাবকরা বুঝে ওঠার আগেই পরিস্থিতি জটিল হয়। কিশোর-কিশোরীদের এই বিশেষ শারীরিক সমস্যা বা ‘আইডিওপ্যাথিক স্কোলিওসিস’ (AIS) মোকাবিলায় এবার একজোট শিক্ষক ও চিকিৎসকরা। ১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার রোটারি সদনে স্পাইন রিসার্চ ফাউন্ডেশন (SRF) আয়োজন করল বিশেষ অনুষ্ঠান ‘UPRIGHT 2026’।
চিকিৎসকদের মতে, ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সিদের মধ্যে প্রায় ১-২ শতাংশ এই সমস্যায় আক্রান্ত হন। রোগটি ব্যথাহীন হওয়ায় শুরুতে নজরে পড়ে না। যখন পিঠের কুঁজ বা শারীরিক বিকৃতি স্পষ্ট হয়, ততক্ষণে অনেকটা দেরি হয়ে যায়। এই বিপদ রুখতেই গত এক বছর ধরে শহরের বিভিন্ন স্কুলে কয়েক হাজার পড়ুয়ার মেরুদণ্ড পরীক্ষা বা স্ক্রিনিং করেছে SRF। ৪,০০০ পড়ুয়ার মধ্যে ৫৪ জনের শরীরে স্কোলিওসিসের উপসর্গ মিলেছে। এক্স-রের মাধ্যমে সেই তথ্য যাচাইও করা হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানে এই দীর্ঘ কর্মসূচির অভিজ্ঞতাই ভাগ করে নিলেন শহরের বিশিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা।
ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টিদের বার্তা, “প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ সনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই বিষয়টি নিয়ে অবহেলা ও ভুল ধারণা প্রচুর।” নিয়মিত স্কুলভিত্তিক স্ক্রিনিং-এর মাধ্যমেই একমাত্র প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ ধরা সম্ভব। এ দিনের অনুষ্ঠানে ‘সুস্থ মেরুদণ্ড, সুস্থ জীবন’ বিষয়ক আন্তঃস্কুল রচনা ও পোস্টার প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। সচেতনতামূলক আলোচনাও চালানো হয় অনুষ্ঠানে।
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আর্তের সেবায় নিয়োজিত অলাভজনক সংস্থা SRF। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০টি জটিল ও ব্যয়বহুল মেরুদণ্ডের অস্ত্রোপচার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করেছে তারা। চিকিৎসক থেকে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট— সকলেই এখানে নিজেদের শ্রম দেন বিনাপয়সায়। পাশাপাশি ৭০ জনেরও বেশি স্পাইন সার্জনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আগামীর পথ প্রশস্ত করছে এই সংস্থা। ডা. সৌম্যজিৎ বসু, ডা. ত্রিনাঞ্জন সারেঙ্গি প্রমুখ ট্রাস্টিদের লক্ষ্য একটাই— আগামী প্রজন্মের শিরদাঁড়া যেন থাকে চিরকাল সোজা ও সুস্থ।
