বৈদিক যুগের চিকিৎসা পদ্ধতিকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিতে বড় পদক্ষেপ করল মোদি সরকার। ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে ভারতের প্রাচীন আয়ুর্বেদ পদ্ধতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একদিকে ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের মতো ১৭টি জীবনদায়ী বহুমূল্য ওষুধের দাম সস্তা করা হল। পাশাপাশি চিকিৎসাক্ষেত্রে গুরুত্ব বাড়ল প্রাচীন আয়ুর্বেদ পদ্ধতির। ‘অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস’ বা এমসের আদলেই এবার দেশে তৈরি হবে তিনটি ‘অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ আয়ুর্বেদ’।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বরাবরই ভারতের ঐতিহ্যকে বিশ্বজনীন করার পক্ষপাতী। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণের ঘোষণা অনুযায়ী, ভারতকে ‘মেডিক্যাল ভ্যালু ট্যুরিজ়ম হাব’ হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। আধুনিক চিকিৎসার সঙ্গে বৈদিক চিকিৎসা পদ্ধতির মেলবন্ধন ঘটিয়ে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চাইছে কেন্দ্র।
নির্মলা তাঁর বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ভারতের প্রাচীন নিরাময় পদ্ধতিকে আন্তর্জাতিক দুনিয়া সম্মান জানিয়েছে। যোগাসনের পর এবার আয়ুর্বেদও সমান মর্যাদা পাচ্ছে। বিশেষ করে অতিমারি পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে ভেষজ চিকিৎসার চাহিদা বেড়েছে। সেই চাহিদাকে কাজে লাগিয়েই এবার আয়ুর্বেদিক ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিগুলির মানোন্নয়ন করা হবে। জামনগরে অবস্থিত ‘হু গ্লোবাল ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন সেন্টার’-কেও আধুনিক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বাজেটে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে পাঁচটি আঞ্চলিক ‘মেডিক্যাল হাব’ তৈরির কথা বলা হয়েছে। এই ‘ইন্টিগ্রেটেড হেল্থ কেয়ার কমপ্লেক্স’গুলিতে গবেষণা, শিক্ষা এবং রোগ শনাক্তকরণের আধুনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি থাকবে বিশেষ ‘আয়ুষ সেন্টার’। রোগীদের অস্ত্রোপচার বা চিকিৎসার পরবর্তী যত্নের জন্য এখানে আবাসের ব্যবস্থাও থাকবে।
এই প্রকল্পের অর্থনৈতিক দিকটিও তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী। আয়ুর্বেদিক ওষুধের রপ্তানি বাড়লে ভেষজ উদ্ভিদ চাষি ও ওষুধ প্যাকেজিং শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের আয় বাড়বে। সেই সঙ্গে এই বিশাল পরিকাঠামো বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে। অর্থমন্ত্রীর এই ঘোষণায় সংসদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে দেখা গিয়েছে। মোদি সরকারের এই মাস্টারস্ট্রোক ভারতকে চিকিৎসা পর্যটনে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ আসনে বসাতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।
