কিছুদিন ধরেই সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল রাজন্যা হালদারের (Rajanya Haldar) একটি ছবি। যেখানে দেখা যাচ্ছে, তাঁর মাথায় একটি কাপড় জড়ানো। অনেকেই খোঁচা দিয়ে কৌস্তভ বাগচীর নেড়া হওয়ার সঙ্গে এর তুলনা করছেন। কমেন্ট বক্সে কেউ কেউ লিখছেন, 'তৃণমূল সরকারে পতন হলে উনি মাথার কাপড় খুলবেন!' অবশেষে এনিয়ে মুখ খুললেন রাজন্যা। ভিডিও করে মাথা ঢেকে রাখার কারণ দেখালেন নিজেই। দেখা গেল, রাজন্যার মাথায় বিরাট জটা! যদিও প্রাক্তন যুব তৃণমূল নেত্রী এই ঘটনাকে ইশ্বরের আশীর্বাদ বলেই ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু সত্যিই কী জটা ঈশ্বর প্রদত্ত? নাকি নেপথ্যে লুকিয়ে থাকে অন্য কোনও কারণ? চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক সেটাই।
ছবি: সোশাল মিডিয়া।
জটার সঙ্গে প্রাচীন কাল থেকেই জড়িয়ে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস। মনে করা হয়, কঠোর তপোস্যা ও সংযমের প্রতীক এই জটা। কিন্তু বিশেজ্ঞদের দাবি কিন্তু অন্য। তাঁরা বলছেন, জটা অর্থাৎ চিকিৎসার ভাষায় 'প্লিকা পোলনিকা'র নেপথ্যে রয়েছে ছত্রাক ও অপরিচ্ছন্নতা। এটা একটা বিরল ও জটিল সমস্যা। নিয়মিত চুল পরিষ্কার না করলে, তেল না দিলে বা আঁচড়ানো না হলে এধরনের জটা পাকিয়ে যায়। বড় চুল সর্বদা খোলা রাখলে, রাতে চুল খুলে ঘুমোলে, দিনের পর দিন সকালেও তা না আঁচড়ালে একটা পর্যায়ের পর চুল শক্ত হয়ে যায়। পাখির বাসার মতো দেখতে হয়। যা আর চিরুনি দিয়ে ছাড়ানো যায় না। এর সঙ্গে ঈশ্বরের কোনও যোগ নেই বলেই দাবি চিকিৎসকদের।
ছবি: সোশাল মিডিয়া।
মুক্তির উপায় কী? জটা অল্প থাকাকালীন ভালো করে আঁচড়ে, শ্যাম্পু করে ঠিক করার চেষ্টা করা যেতে পারে। তবে যদি তা জটিল পর্যায়ে চলে যায় সেক্ষেত্রে মাথায় চিরুনি বসানোও অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তখন প্রথমেই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত। প্রয়োজনে পুরো চুল কেটে ফেলাই ভালো। চিকিৎসার মাধ্যমে জটাকে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো যায় কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে জটা তৈরির প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে শুরুতেই সমস্যা সমাধান সম্ভব। তবে অধিকাংশই ঈশ্বরের আশীর্বাদ ভেবে বিষয়টা ফেলে রাখেন বলে পরবর্তীতে তা বিরাট আকার নেয়।
