রান্না নেহাত ছেলেখেলা নয়, আসলে তা শিল্প ও বিজ্ঞানের এক নিখুঁত মেলবন্ধন। রাঁধুনি যতই দক্ষ হন না কেন, রান্নায় ভুলচুক হতেই পারে। যেমন, অনিচ্ছাকৃত একাধিকবার লবণ দেওয়া হয়ে যেতে পারে একই রান্নায়। অথবা এক চামচের বদলে হাত ফসকে পড়ে যেতে পারে অনেকখানি।
লবণ এমনই এক উপাদান, যার উপর রান্নার স্বাদের সিংহভাগই নির্ভর করে। যদি সঠিক পরিমাণে লবণ দেওয়া যায়, তবে সে রান্না মুখে অমৃত লাগে। তবে বাড়াবাড়ি হলে সে খাবার মুখে তোলা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তবে কি ফেলে দেওয়া হবে সেই খাবার? কীভাবে তা খাদ্যযোগ্য করা যাবে আবারও? রইল খুব সহজ কিছু টিপস (Cooking Tips)।
বাড়তি সবজি ও জল
লবণ বেশি হয়ে গিয়েছে তা যদি রান্নার মাঝপথেই বুঝতে পারেন, তবে আরও কিছুটা সবজি কেটে দিয়ে দিন তাতে। অথবা জলের পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। সাধারণত এতেই নোনা স্বাদ বেশিটাই ব্যালেন্স হয়ে যায়।
গুড় বা চিনি
কোন খাবারে লবণ বেশি হয়েছে, তার উপরেই নির্ভর করে যে তা কীভাবে কমানো যাবে। যেমন চিড়ের পোহা, ডাল, সবজির চচ্চড়ি বা আলুর দমে এক চিমটি গুড় বা চিনি দিলে তা নোনতা স্বাদ কমাতে পারে। তবে একগাদা না দিয়ে, সামান্য মিশিয়ে চেখে বুঝতে হবে আর মেশানোর প্রয়োজন রয়েছে কি-না।
লেবুর রস
ভাজা বা মাখো মাখো সবজির তরকারিতে নুন কমাতে হলে ব্যবহার করা যায় লেবুর রস। সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে কিছুক্ষণ ফুটতে দিলে স্বাদের ভারসাম্য ফেরে। টক স্বাদ জিভে নোনতা স্বাদের অনুভূতি কিছুটা কমায়।
দই বা ফ্রেশ ক্রিম
যদি মাছ-মাংসের তরকারি হয়, অথবা এমন কোনও সবজির তরকারি যাতে খানিক টক স্বাদ হলে মন্দ লাগবে না, তবে টক দই বা ফ্রেশ ক্রিম ঢেলে দেওয়া যায় কিছুটা। এতে নুন কমবে, ঝোল মাখো মাখো হবে। খেতেও মন্দ লাগবে না।
টোম্যাটোর পিউরি
মাছের ঝোল, ডিমের ঝোল বা আলুর তরকারিতে বেশ কিছুটা টোম্যাটো একেবারে মিহি পিউরি করে ঢেলে দিলে নোনতা স্বাদ মুহূর্তে কমে যায়। তবে তরকারি যদি অনেকখানি রান্না হয়ে গিয়ে থাকে, তবে কাঁচা পিউরি তাতে সরাসরি না দেওয়া ভালো। বরং অন্য একটি পাত্রে খানিক নেড়ে নিয়ে তবে তা মূল তরকারিতে মেশানো উচিত।
সেদ্ধ আলু
অনেকেই তরকারিতে নুন কমাতে হলে, চোখ বুজে ভরসা করেন সেদ্ধ আলুকে। তরকারি যাই হোক না কেন, কয়েক টুকরো সেদ্ধ আলু ফেলে দিলে তা বাড়তি নুন মুহূর্তে শুষে নেয়। এরপর চাইলে আলু রেখে দেওয়া যায় তরকারিতে। অথবা হাতা দিয়ে সন্তর্পণে তুলেও নেওয়া যেতে পারে।
