বাড়ি পরিষ্কার রাখার কথা উঠলে প্রথমেই আসে বসার ঘর বা শোয়ার ঘরের নাম। কিন্তু অন্দরসজ্জা বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকতে সবচেয়ে বেশি পরিচ্ছন্ন রাখা প্রয়োজন রান্নাঘর ও বাথরুম। প্রতিদিন বাসন মাজা বা রান্নাঘরের স্ল্যাব পরিষ্কার করলেই কাজ শেষ হয় না। অজান্তেই রান্নাঘরের বেশ কিছু কোণে বাসা বাঁধে কয়েক কোটি অদৃশ্য জীবাণু। পরিবারের সদস্যদের পেটের রোগ বা সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে নজর দিতে হবে বিশেষ কিছু দিকে। দেখে নিন রান্নাঘরের কোন কোন জিনিস আপনার বিপদ বাড়াতে পারে।
ফাইল ছবি
১. কিচেন টাওয়াল: রান্নাঘরের সবচেয়ে অপরিহার্য অথচ অবহেলিত জিনিস হল মোছার কাপড় বা তোয়ালে। হাত মোছা থেকে শুরু করে গরম হাঁড়ি ধরা— সব কাজই চলে এই কাপড়ে। নিয়মিত সাবান দিয়ে কাচলেও এর খাঁজে সালমোনেল্লা বা ই.কোলাইয়ের মতো ভয়ংকর ব্যাক্টেরিয়া থেকে যেতে পারে।
করণীয়: প্রতিদিন ব্যবহারের পর গরম জলে জীবাণুনাশক দিয়ে তোয়ালে ধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে নিন। মাসে অন্তত একবার পুরনো তোয়ালে বদলে নতুন তোয়ালে ব্যবহার করুন।
২. ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির যত্ন: মিক্সার গ্রাইন্ডার, মাইক্রোওয়েভ বা চিমনি— আধুনিক রান্নাঘরের এই জিনিশগুলো নিয়মিত পরিষ্কার হয় না। মিক্সারের জারের ভেতরটা পরিষ্কার থাকলেও মোটরের গায়ে তেলচিটে ধুলো জমে থাকে। মাইক্রোওয়েভের ভেতরের দেওয়াল থেকেও ছড়াতে পারে ছত্রাক।
করণীয়: প্রতিবার ব্যবহারের পর হালকা গরম জলে লিকুইড সোপ মিশিয়ে যন্ত্রগুলো মুছে নিন। চিমনি বা মাইক্রোওয়েভ পরিষ্কার করতে লেবুর রস ও ভিনিগারের মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন।
৩. ছুরি, বটি ও চপার বোর্ড: কাঁচা আনাজ থেকে শুরু করে মাছ-মাংস— সবকিছুই আমরা একই চপার বোর্ড বা বটিতে কাটি। কাঠের চপার বোর্ডের ফাটলে জীবাণু দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। এটি সরাসরি খাদ্যে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে।
করণীয়: ব্যবহারের আগে ও পরে সবসময় গরম জল ও সাবান দিয়ে এগুলো ধুয়ে নিন। মাছ-মাংস কাটার জন্য আলাদা বোর্ড ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। প্লাস্টিকের চপার বোর্ড বছরে একবার অবশ্যই বদলে ফেলুন।
৪. সিঙ্ক ও ড্রেন পাইপ: সারাদিন এঁটো বাসন বা মাছ-মাংস ধোয়ার ফলে রান্নাঘরের সিঙ্ক হয়ে ওঠে জীবাণুর আঁতুড়ঘর। শুধু সিঙ্ক চকচকে রাখলেই হবে না, পাইপের ভেতরে জমে থাকা ময়লা থেকেও সংক্রমণ ছড়ায়।
করণীয়: রোজ রাতে কাজ শেষে সিঙ্কে বেকিং সোডা ও ভিনিগার ঢেলে দিন। মিনিট পনেরো পর ওপর থেকে গরম জল ঢালুন। এতে পাইপের মুখ পরিষ্কার থাকবে এবং দুর্গন্ধ দূর হবে।
রান্নাঘর শুধু সাজিয়ে রাখলেই হবে না, প্রতিটি কোণকে জীবাণুমুক্ত রাখাই সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি। একটু বাড়তি সতর্কতা আপনার পরিবারকে বড়সড় রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।
