সংসারের সুখ-শান্তি বজায় রাখতে বাস্তুশাস্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে দিনের শেষে ক্লান্তি মেটানোর একমাত্র ঠিকানা হল শোয়ার ঘর বা বেডরুম। বাস্তুবিদদের মতে, এই ঘরের প্রতিটি কোণের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের রসায়ন। বেডরুমের নেতিবাচক শক্তি বা ‘নেগেটিভ এনার্জি’ অনেক সময় অকারণ বিবাদ ও মানসিক অশান্তির পথ প্রশস্ত করে। তাই শোয়ার ঘরে কোন জিনিস রাখা উচিত আর কোনটি নয়, তা নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
অনেকেই ভক্তিভরে বেডরুমে দেবদেবীর মূর্তি বা ছবি রাখেন। বাস্তু মতে, এটি একেবারেই অনুচিত। ঠাকুরঘর বা পুজোর জন্য নির্দিষ্ট জায়গাই হল ঈশ্বরের আসন। শোয়ার ঘরে ঈশ্বরের উপস্থিতি দাম্পত্য জীবনে মানসিক দূরত্ব তৈরি করতে পারে। কলহ এড়াতে আজই বেডরুম থেকে আধ্যাত্মিক অনুষঙ্গ সরিয়ে ফেলুন।
ছবি: সংগৃহীত
বিছানায় বসে খাবার খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই থাকে। শোয়ার ঘরে শুকনো খাবার বা বিস্কুটের কৌটো রাখা বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী অশুভ। এতে ঘরের পরিচ্ছন্নতা যেমন নষ্ট হয়, তেমনই নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সম্পর্কের ওপর। জীবাণু ও পোকামাকড়ের উপদ্রব স্বাস্থ্যের ক্ষতি করার পাশাপাশি মানসিক চাপও বাড়িয়ে দেয়।
বেডরুমে আয়না রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা প্রয়োজন। খেয়াল রাখুন, বিছানায় শুয়ে যেন আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি না দেখা যায়। বাস্তুমতে, বিছানার সামনে আয়না থাকলে তা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও তৃতীয় ব্যক্তির অনুপ্রবেশের ইঙ্গিত দেয়। যদি আয়না সরানোর জায়গা না থাকে, তবে রাতে ঘুমানোর সময় তা পর্দা বা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন।
কেবল অশুভ জিনিস বর্জন নয়, ইতিবাচকতা বাড়াতে ঘর পরিষ্কার রাখা একান্ত প্রয়োজন। অপ্রয়োজনীয় আসবাব বা ভাঙা জিনিস ঘর থেকে বিদায় করুন। মনে রাখবেন, ঘরের এনার্জি সরাসরি আমাদের মনকে প্রভাবিত করে। পরিচ্ছন্ন ও বাস্তুসম্মত শয়নকক্ষ সম্পর্কের বাঁধন আরও মজবুত করে। ছোটখাটো এই পরিবর্তনগুলোই আপনার দাম্পত্য জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে হারানো শান্তি ও প্রেম। সতর্ক পদক্ষেপেই লুকিয়ে আছে সুখী গৃহকোণের চাবিকাঠি।
