অধিকাংশ বাড়িতেই ছবিটা এক। বই খুললেই খুদের হাই ওঠে। না হলে মন পড়ে থাকে জানলার ওপাড়ে। কড়া শাসনে কাজ হয় না। একদিকে সিলেবাসের চাপ। অন্য দিকে একাগ্রতার অভাব। সব মিলিয়ে ফলাফল শূন্য। বাস্তুবিদদের মতে (Vastu Tips), পড়ার ঘরের দেওয়ালই শিশুর মানসিক বিকাশে সরাসরি অনুঘটকের কাজ করে। তাই ঘরের দেওয়ালে এই সামান্য বদলই ফেরাতে পারে ম্যাজিক। কীভাবে সাজাবেন খুদের পড়ার ঘর? জেনে নিন।
ছবি: সংগৃহীত
একঘেয়ে চার দেওয়াল শিশুর সৃজনশীলতাকে নষ্ট করে দেয়। সেখানে রঙের প্রয়োগ এবং ছবির বিন্যাস ঘটাতে পারে অদ্ভুত সব পরিবর্তন। বাস্তু অনুযায়ী, পড়ার ঘরের বিশেষ কোনও জায়গায় একটি বড় তোতাপাখির ছবি রাখা খুব জরুরি। খুদের নজর বারবার সেই ছবিতে পড়লে তার স্মৃতিশক্তি ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পাবে। একঘেয়েমি কাটাতে দেওয়ালে জায়গা দিতে পারেন উড়ন্ত পাখির ঝাঁককে। ডানা মেলা পাখির ছবি বাচ্চার মনে গণ্ডি পেরিয়ে বড় হওয়ার স্বপ্ন বুনে দেয়, যা তাকে আরও সৃজনশীল করে তোলে।
ছবি: সংগৃহীত
শিশুর মন থেকে অলসতা কাটাতে কার্যকরী হল সাতটি ছুটন্ত ঘোড়ার ছবি। এই ছবি উন্নতির প্রতীক। পড়ার টেবিলে সামনে এটি থাকলে বাচ্চার মনের জড়তা কেটে যায়। নতুন উদ্যমে পড়াশোনায় মন বসে। একইভাবে ঘরকে ইতিবাচক শক্তিতে ভরিয়ে দিতে সূর্যোদয়ের ছবি দারুণ কাজ করে। উদীয়মান সূর্য যেমন অন্ধকারের বিনাশ ঘটায়, তেমনই শিশুর মনে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করে। এছাড়া দেওয়ালে মণীষীদের ছবি রাখা আবশ্যিক। বিবেকানন্দ বা বিদ্যাসাগরের আদর্শ যেন রোজ চোখের সামনে থাকে। এই প্রতিকৃতিগুলো অবচেতন মনে অনুপ্রেরণা জোগায়।
বর্জন করুন নেতিবাচক অনুষঙ্গ
পড়ার ঘর মানেই সেখানে কেবল শান্তির আবহ বজায় থাকবে। তাই এমন কিছু রাখা ঠিক নয় যা মনকে বিক্ষিপ্ত করে। যুদ্ধের ছবি বা কান্নাকাটির দৃশ্য খুদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এমনকী গ্ল্যামার জগতের চটকদার পোস্টার থেকেও পড়ার ঘরকে মুক্ত রাখুন। দেওয়ালে ঝুলতে থাকা পুরনো ক্যালেন্ডার স্থবিরতার প্রতীক, যা অলক্ষ্যেই উন্নতির পথ আটকায়। ঘর সাজানোর এই অতি সামান্য রদবদলই কিন্তু খুদের পড়ার অভ্যাস আমূল বদলে দিতে পারে।
