ইঁট-কাঠের খাঁচায় বন্দি নাগরিক জীবন। এরই মাঝে একটুকরো সবুজের ছোঁয়া কার না ভালো লাগে? তবে ফুলের গাছ কেবল চোখের আরাম নয়, ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর গোপন জাদুকাঠিও বটে। বাস্তুশাস্ত্র বলছে, অন্দরের সঠিক ফুলগাছ জীবনে ডেকে আনতে পারে অফুরন্ত ঐশ্বর্য আর মানসিক প্রশান্তি। অশুভ শক্তিকে দূরে ঠেলে ঘরে ফিরিয়ে আনতে পারে দেবী লক্ষ্মীর কৃপা। কোন কোন ফুলগাছ আপনার বাস্তুর জন্য শুভ জানেন কি?
ছবি: সংগৃহীত
১) গোলাপের রূপ আর সুগন্ধে মোহিত নয় এমন কি কেউ আছে? বাস্তু মতে, ভিটের মাটিতে লাল গোলাপের চারা বসানো অত্যন্ত শুভ। এটি গৃহের সমস্ত নেতিবাচক শক্তিকে কর্পূরের মতো উড়িয়ে দেয়। সুবাসিত লাল গোলাপের ছোঁয়ায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক প্রেম-প্রীতি গাঢ় হয়। দূর হয় মনের সব মলিনতা।
২) শরতের স্নিগ্ধতা নিয়ে যে শিউলি ফোটে, পুরাণে তাকে 'পারিজাত' বলে ডাকা হয়। লোকবিশ্বাস মতে, শিউলি গাছের উপস্থিতিতে তুষ্ট হন স্বয়ং ধনদেবী লক্ষ্মী। এই গাছের হাওয়া যেখানে পৌঁছায়, সেখানে অভাব-অনটন টিকতে পারে না। সব রকম পারিবারিক অশান্তি ও মনমালিন্যের চিরতরে অবসান ঘটায় এই পুণ্যদায়ী ফুল।
৩) গন্ধরাজের পাশে জুঁইয়ের স্থান বাঙালির মনে চিরকালই অনন্য। জুঁইয়ের মিষ্টি সুবাস চারপাশকে নিমেষেই সতেজ করে তোলে। বাস্তুবিদদের মতে, জুঁই ফুলের গাছে ইতিবাচক শক্তির জোয়ার আসে। এই শুভ্র ফুলে দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনা করলে সংসারে সুখ উপচে পড়ে। কর্মক্ষেত্রে আসে অভাবনীয় অগ্রগতি, দূর হয় দাম্পত্যের যাবতীয় কলহ।
ছবি: সংগৃহীত
৪) সবশেষে আসে চম্পা বা চাঁপা ফুলের কথা। বাস্তুশাস্ত্রে চাঁপা গাছকে পরম সৌভাগ্যের প্রতীক মনে করা হয়। বাড়ির উত্তর-পশ্চিম কোণে এই গাছ রোপণ করাই নিয়ম। চাঁপার মনমাতানো সুগন্ধ ঘরের সমস্ত বিষণ্ণতা ধুয়ে মুছে সাফ করে দেয়। জীবনের দীর্ঘদিনের দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে চাঁপা ফুলের জুড়ি মেলা ভার।
