গ্রীষ্মকালে বাইরে বেরোলে, ঘাম হওয়া আটকানোর প্রায় কোনও উপায়ই নেই। একদিকে জামা ভিজে সপসপে, অন্যদিকে পায়ের আঙুলের ফাঁকে জমে ঘাম। বাড়ি ফিরে জুতো খুলতেই দুর্গন্ধে প্রাণ ওষ্ঠাগত। কারণ দীর্ঘ সময় ঘাম জমে থাকা মানেই জন্ম নেয় অগুন্তি ব্যাকটেরিয়া। জনসমক্ষে এমন দুর্গন্ধের জন্য হয়রানিও কম হয় না। লজ্জায় পড়তে হয় ব্যক্তিকে। কিন্তু কেবল সাবান ঘষে এই গন্ধ থেকে রেহাই মেলে না কিছুতেই।
কী করা যায় তবে? উত্তর রয়েছে বাড়ির রান্নাঘরেই। আজ্ঞে হ্যাঁ, সেই উপকরণের নাম বেকিং সোডা (baking soda)। পায়ের দুর্গন্ধ দূর করতে এর জুড়ি মেলা ভার। সঠিকভাবে বেকিং সোডা প্রয়োগ করতে পারলে ব্যাকটেরিয়া বিনাশ হয়, জুতোও থাকে নতুনের মতো।
ব্যবহারের পদ্ধতি কী? জেনে নিন এইবেলা।
সুতির কাপড়ে খানিকটা বেকিং সোডা নিয়ে পুঁটুলি বাঁধুন। জুতোর ভিতরে রেখে দিন সারা রাত।
১। জুতোর ভিতর ছড়িয়ে দিন বেকিং সোডার পরত। তবে জুতোর পাটি যেন শুকনো হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ভিজেভাব রয়ে গেলে, সোডা দলা পাকিয়ে যাবে। আবার সোডার পরিমাণ অতিরিক্ত হয়ে গেলে, পা হড়কে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
২। সোডা ছড়িয়েই জুতো পায়ে গলিয়ে নিলে হবে না। রেখে দিতে হবে সারা রাত। চব্বিশ ঘণ্টা এমনভাবে রেখে দিতে পারলে আরওই ভালো। যত বেশিক্ষণ বেকিং সোডা জুতোর ভিতর দিয়ে রাখা যাবে, ততই কমবে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা। পূর্বের দুর্গন্ধও কমে যেতে বাধ্য।
৩। জুতো ঝেড়ে ফেলে দিন লেগে থাকা সোডার অংশ। কাপড় দিয়ে মুছতে যাবেন না, বারবার টোকা মেরে যতটা পারা যায়, সাফসুতরো করে নিন। এই অবস্থায় জুতো খানিকক্ষণ সূর্যের আলোয় রেখে দিতে পারলে খুবই ভালো হয়। গন্ধ দূর হয়ে যায় পুরোপুরিভাবে।
৪। যদি জুতোর ভিতর বেকিং সোডা দেওয়া ও তা ঝাড়ার কাজ জটিল লাগে, তবে নরম সুতির কাপড়ের মধ্যে খানিকটা বেকিং সোডা নিয়ে পুঁটুলি বাঁধুন। জুতোর একেবারে ভিতরে ঢুকিয়ে রেখে দিন সারা রাত। বাকি পদ্ধতি একইভাবে মেনে চলুন। এতেও প্রায় একইরকম ফল মিলবে।
পায়ের আঙুলের ফাঁকে পাতিলেবুর টুকরো ঘষে নিতে পারলে ব্যাকটেরিয়া দূর হয়।
কেবল জুতো পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়। যত্ন নিতে হবে পায়েরও। প্রতিদিন বাড়ি ফিরে গরম জলে পা ধুতে পারলে খুবই ভালো। পায়ের আঙুলের ফাঁকে পাতিলেবুর টুকরো ঘষে নিতে পারলে ব্যাকটেরিয়া দূর হয়। স্নান সেরে পা শুকনো করে মোছার পর, ফিটকিরির টুকরো ভালো মতো ঘষে নেওয়া যায়। আঙুলের ফাঁক, পায়ের পাতা সবটাতেই বুলিয়ে নিতে হবে এই ভিজে ফিটকিরি। বলা বাহুল্য, দেহের যে কোনও অংশে ঘামের গন্ধ হলেই স্নানের পর সেখানে ফিটকিরি বোলানো যায়। এতে দুর্গন্ধ সমূলে দূর হতে বাধ্য।
