ভোলেবাবা অল্পেতেই সন্তুষ্ট। মাত্র একটি বেলপাতা আর এক ঘটি গঙ্গাজল। তাতেই তিনি প্রসন্ন। তবে দেবাদিদেবের পুজোয় ভক্তি যেমন শেষ কথা, তেমনই নিয়মনিষ্ঠাতেও কোনও ফাঁক রাখা চলে না। শাস্ত্রমতে, মহাদেবের আরাধনায় সামান্য ভুলত্রুটি ডেকে আনতে পারে গেরস্তের ঘোর অমঙ্গল। তাই ঘরে শিবলিঙ্গ রাখার আগে বাস্তুসম্মত নিয়মগুলি জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। না হলে শুভ ফলের চেয়ে অশুভ ফলের পাল্লাই ভারী হতে পারে।
ফাইল ছবি
আজকাল অনেকেই আধ্যাত্মিক টানে বা গৃহের কল্যাণে অন্দরমহলে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু মনে রাখবেন, সব শিবলিঙ্গ গৃহস্থের ঘরের জন্য উপযুক্ত নয়। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, বাড়িতে ভুলেও কখনও সাদা বা শ্বেত পাথরের শিবলিঙ্গ রাখা উচিত নয়। সাদা শিবলিঙ্গ ঘরের অন্দরে নেতিবাচক শক্তির সঞ্চার করতে পারে। গৃহের মঙ্গলের জন্য সর্বদা কালো রঙের শিবলিঙ্গই প্রতিষ্ঠা করা শ্রেয়। কৃষ্ণবর্ণের শিবলিঙ্গই গৃহস্থের জন্য পরম কল্যাণকর।
কেবল রঙেই শেষ নয়, শিবলিঙ্গটি ঠিক কী ধরনের উপাদান বা পাথর দিয়ে তৈরি, তা পরখ করে নেওয়াও আবশ্যিক। শাস্ত্র বিরুদ্ধ পাথরের শিবলিঙ্গ ঘরে রাখলে বাস্তুদোষ তৈরি হয়। ফলে সংসারে অশান্তি ও অমঙ্গল নেমে আসতে পারে।
ফাইল ছবি
তবে আপনি যদি একান্তই শ্বেত পাথরের শিবলিঙ্গের পুজো করতে চান, তবে তারও রয়েছে একটি বিশেষ বিধান। মূল বাসভবন বা শোওয়ার ঘর থেকে কিছুটা দূরে, সামান্য ব্যবধানে একটি ছোট মন্দির তৈরি করুন। সেখানেই সাদা শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। যেহেতু আশুতোষ খুব বড় আড়ম্বর পছন্দ করেন না, তাই তাঁর জন্য বিশাল মন্দিরের প্রয়োজন নেই। ভক্তিভরে তৈরি একটি ছোট্ট দেউলিই তাঁর জন্য যথেষ্ট।
সবশেষে যে কথা না বললেই নয়। বাড়িতে যদি শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করা থাকে, তবে তাঁকে কখনও উপবাসে রাখা যাবে না। অর্থাৎ, প্রতিদিন নিয়ম মেনে নিষ্ঠাভরে মহাদেবের নিত্যপুজো করতেই হবে। সাধ্যমতো পুজোর উপাচার দিয়ে প্রতিদিন দেবাদিদেবের বন্দনা না করলে গৃহস্থের অমঙ্গল অবশ্যম্ভাবী। তাই বাস্তুর নিয়ম মেনে সঠিক শিবলিঙ্গ বাছুন এবং ভক্তিভরে তাঁর সেবা করুন। শিবের আশীর্বাদে সংসার ভরে উঠবে সুখ-শান্তিতে।
