সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না। কিন্তু ঘরের ঘড়িটি যদি ভুল দেওয়ালে ঝোলে, তবে আপনার ভালো সময়টাই থমকে যেতে পারে। বাস্তুশাস্ত্র বলছে, দেওয়াল ঘড়ি শুধু সময় দেখার যন্ত্র নয়। এটি ঘরের ইতিবাচক ও নেতিবাচক শক্তির প্রধান নিয়ামক। অজান্তে করা একটা ছোট ভুলই ডেকে আনতে পারে চরম আর্থিক অনটন। ঝড়ের বেগে বেরিয়ে যেতে পারে পকেটের সমস্ত টাকা।
প্রতীকী ছবি
বাস্তুমতে, বাড়ির দক্ষিণ দিককে যমের দিক বলা হয়। এই দিকটি স্থায়িত্বের প্রতীক। ভুল করেও দক্ষিণ দিকের দেওয়ালে ঘড়ি ঝোলানো উচিত নয়। এতে পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী বা চাকরিজীবীদের কর্মক্ষেত্রে উন্নতির গতি একেবারে থমকে যায়। থমকে যায় আয়ের উৎসও। অনেকেই আবার ঘরের দরজার ঠিক ওপরের দেওয়ালে ঘড়ি টাঙাতে পছন্দ করেন। বাস্তু অনুযায়ী এটি অত্যন্ত অশুভ। এই দরজা দিয়ে যাতায়াতের সময় মনে এক অজানা মানসিক চাপ তৈরি হয়। ঘরের ভেতরে পজিটিভ শক্তির প্রবেশ থমকে যায়।
ঘরে বন্ধ বা অচল ঘড়ি রেখে দেওয়া মানে জীবনের অগ্রগতিকে নিজে হাতে টেনে ধরা। অচল ঘড়ি নেতিবাচক শক্তিকে চুম্বকের মতো আকর্ষণ করে। এর জেরে পরিবারের সদস্যদের পড়াশোনা ও ব্যবসায়িক উন্নতি আটকে যায়। পাল্লা দিয়ে বাড়ে অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক ক্ষতি। একইভাবে, আসল সময়ের থেকে ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে রাখা অত্যন্ত অমঙ্গলজনক। এতে কঠোর পরিশ্রমের পরও মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়। প্রয়োজনে সময় দু-তিন মিনিট এগিয়ে রাখুন, কিন্তু কখনই পিছিয়ে রাখবেন না।
প্রতীকী ছবি
ঘড়ির কাচে সামান্য ফাটল ধরলে বা ভেঙে গেলে তা অবিলম্বে বদলে ফেলুন। ভাঙা কাচ দুর্ভাগ্য ডেকে আনে। মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কুপ্রভাব ফেলে। এছাড়া ত্রিকোণ বা ধারালো কোণযুক্ত ঘড়ি ঘরে অশান্তি ও মানসিক চাপ বাড়ায়। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে গোল, চৌকো বা ডিম্বাকৃতির ঘড়ি ব্যবহার করাই শ্রেয়। রঙের ক্ষেত্রে কালো বা গাঢ় নীল এড়িয়ে চলুন। বেছে নিন সাদা বা হালকা নীল রঙ।
তাহলে ঘড়ি রাখবেন কোথায়? বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে ঘরের উত্তর এবং পূর্ব দিক সবচেয়ে শুভ। উত্তর দিকে ঘড়ি রাখলে আর্থিক উন্নতির নতুন রাস্তা খোলে। আর পূর্ব দিক জীবনে এনে দেয় একগুচ্ছ নতুন সুযোগ। বিশেষ করে ঘরে যদি একটি পেন্ডুলাম ঘড়ি থাকে, তবে তা জীবনের অগ্রগতির চাকা আরও দ্রুত সচল করে দেয়। আজই মিলিয়ে যাচাই করে নিন। আপনার ঘরের ঘড়িটি সঠিক নিয়মে চলছে তো?
