গর্ভধারণ জীবনের এক অনন্য অধ্যায়। এই সময়ে হবু মায়ের শারীরিক ও মানসিক যত্নের খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি। এমনকী চারপাশের পরিবেশও মা ও তাঁর অনাগত সন্তানের উপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই,বাড়ির সাজসজ্জা ও আবহ বদলালে বজায় থাকে বাস্তুর ইতিবাচক প্রবাহ। এ কারণেই গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বাস্তুশাস্ত্রে পৃথক নিধান রয়েছে। এই সময় বাস্তুর ইতিবাচক শক্তি অব্যাহত রাখতে মেনে চলতে হবে বেশ কিছু নিয়ম। এতে পরিবারের সদস্যদের মানসিক চাপ কমে। সন্তানও সুস্থ থাকে। ঠিক কোন নিয়ম মানবেন?
গর্ভবতী মহিলাদের জন্য বাস্তুশাস্ত্রে পৃথক নিধান রয়েছে।
(১) হবু মায়ের ঘরে ইলেকট্রনিক সামগ্রী যথাসম্ভব কম রাখা ভালো। ল্যাপটপ, টেলিভিশন বা মোবাইল ফোনের মতো যন্ত্র থেকে নির্গত তরঙ্গ মা ও সন্তানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ঘুমানোর সময়ে এসব জিনিস ঘরের বাইরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বাস্তুবিদরা।
(২) গর্ভবতী নারীর ঘরের পরিবেশ হওয়া চাই মুক্ত ও আনন্দময়। ঘরে যাতে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস চলাচল করতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখুন। প্রতিদিন ঘরে তাজা ফুলের তোড়া রাখলে মন ভালো থাকে। নিয়মিত ধর্মীয় বা ইতিবাচক বই পড়ার অভ্যাস মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।
(৩) ঘুমানোর সময়ে মাথার দিক সঠিক রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বাস্তুশাস্ত্র মতে, গর্ভবতী মহিলাদের দক্ষিণ দিকে মাথা রেখে ঘুমানো উচিত। এতে মানসিক ভারসাম্য বজায় থাকে এবং গর্ভস্থ সন্তানের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তবে উত্তর-পশ্চিম দিকে মুখ করে ঘুমানো বাস্তু অনুযায়ী অনুচিত।
(৪) ঘরের রঙের বাছাই মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবে কাজ করে। ঘরের দেয়ালে ও পর্দায় হালকা গোলাপি, হালকা হলুদ, সাদা কিংবা হালকা নীল রং ব্যবহার করুন। এসব রং মন শান্ত রাখে। গাঢ় কালো, গাঢ় লাল বা উজ্জ্বল কমলা রং এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। কারণ এগুলো মানসিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। পাশাপাশি, ঘরে শ্রীকৃষ্ণের বাল্যরূপ অর্থাৎ গোপালের ছবি রাখলে ঘরে ইতিবাচক পরিবেশ বজায় থাকে।
(৫) ঘরের কেন্দ্র বা মধ্যস্থলকে বলা হয় ব্রহ্মস্থান। এই স্থানটি সবসময় ফাঁকা রাখার চেষ্টা করুন। কোনও ভারী বস্তু বা আসবাব ভুলেও এই স্থানে রাখবেন না। বরং চারপাশে প্রয়োজনীয় জিনিস রেখে এই স্থানটি মুক্ত রাখুন। এতে ঘরের পরিবেশ হালকা থাকবে। এতে মা ও গর্ভস্থ বাচ্চা দুজনের মন হালকা থাকবে।
