গাড়ির সামনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। মাথা ঢাকা সাদা হুডিতে। নিট বিক্ষোভে শামিল কয়েকজনকে পুলিশ তুলে নিয়ে যাচ্ছিল সেই ভ্যানেই। কিন্তু ওই তরুণীর দৌলতেই কার্যত তারা বাধ্য হয় আন্দোলনকারীদের ছেড়ে দিতে। ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করেছেন উদ্ধব শিবিরের শিব সেনা নেতা ও সাংসদ সঞ্জয় রাউত। প্রশ্ন উঠছে, কে এই তরুণী?
জানা গিয়েছে, তরুণীর নাম রিয়া আহির। বয়স ২৭। সম্ভবত তিনি বিক্ষোভরতদের কেউ নন। কিন্তু সেই তিনিই এখন আরশোলাদের বিক্ষোভের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন বাণিজ্যনগরীতে। পেশায় অভিনেত্রী ও মডেল রিয়ার ইনস্টায় ফলোয়ারের সংখ্যা লক্ষাধিক। বাবা ছিলেন আইটিবিপির কর্মী। পরিবারের অনেকেই সেনায় ছিলেন। এহেন পরিবারের মেয়ে রিয়াই রুখে দাঁড়ালেন পুলিশের ভ্যানের সামনে। তিনি বলছেন, ''আমি দেখলাম ভ্যানের ভেতর গাদাগাদি করে মানুষকে ভরা হয়েছে। আমি একটি মেয়েকে টেনে বের করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু পুলিশ আমাকে বাধা দিল। তাই আমি গাড়িটির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ি। ওদের মুক্তির দাবি জানাই।'' পরে আরও কয়েকজন দাঁড়িয়ে পড়েন তাঁর পাশে। রিয়া লাগাতার পুলিশকে বুঝিয়ে চলেন। শেষে পুলিশ ছেড়ে দেয় বন্দিদের। আর তারপর থেকেই ভাইরাল ভিডিওটি।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি)-র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরেই উত্তাল দিল্লি। দিল্লি পুলিশের তরফে অনুমতি না দেওয়া হলেও পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার সকালে সংসদ অভিযানে নামে ককরোচ জনতা পার্টি। ১৬৩ ধারা উপেক্ষা করে ‘আরশোলা’দের এই অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রাজধানী। ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। প্রায় ৫০০০ পুলিশ ও আধা সেনা নামিয়ে কার্যত ঘিরে ফেলা হয় যন্তর মন্তর চত্ত্বর। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। তারপর থেকেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি রাজধানীতে। বুধবার রাতে তাঁদের কয়েকজন সদস্য পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ। বিক্ষোভের রেশ ছড়িয়েছে দেশের অন্যত্রও। শুক্রবার সারা দেশেই বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে আরশোলাদের।
