সোমনাথ রায়, নয়াদিল্লি: 'বাংলাদেশি' তকমা দিয়ে ওড়িশায় বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর লাগাতার অত্যাচার। যার জেরে মুর্শিদাবাদের এক শ্রমিকের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। অত্যাচারের শিকার তাঁর সহকর্মীরা। আক্রান্ত হওয়া সেই বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে রবিবার সম্বলপুর যাচ্ছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। এই বিষয়ে শনিবার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গেও কথা বলবেন তিনি।
বাংলায় কথা বলা ছিল 'অপরাধ'। বাংলাদেশি সন্দেহে মারধরের জেরে সম্প্রতি ওড়িশায় মৃত্যু হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলার পরিযায়ী শ্রমিক জুয়েল রানার। সেই টাটকা ক্ষতর মাঝেই বৃহস্পতিবার আরও একটি ঘটনা ঘটে। মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির এক পরিযায়ী শ্রমিক ওড়িশা থেকে ছত্তিশগড় যাওয়ার পথে গণপ্রহারের পর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। বিজেপিশাসিত ওড়িশায় লাগাতার বাঙালিদের উপর এই ধরনের আক্রমণ ঘটেই চলেছে। এঁদের মধ্যে বেশিরভাগই মুর্শিদাবাদ জেলার নাগরিক। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি নিয়ে চিন্তাপ্রকাশ করে এসেছেন অধীররঞ্জন চৌধুরী।
এবার একেবারে রাজপথে নেমে এই ঘটনার প্রতিরোধ করতে চাইছেন অধীর। রবিবার সকালে তিনি যাচ্ছেন ওড়িশার সম্বলপুরে। সকাল ১০টায় সোনাপল্লি এলাকায় দেখা করবেন, কথা বলবেন বাঙালি পরিযায়ীদের সঙ্গে। সম্বলপুর জেলার কংগ্রেস সভাপতির উপস্থিতিতে তিনি সেখানকার বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের বার্তা দেবেন যে, তাঁদের পাশে তিনি ও কংগ্রেস আছে। প্রয়োজনে ওড়িশার মাটিতেই বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন অধীর।
রাজ্যের নাগরিকদের এই হয়রানির কথা জানিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন বহমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ। এই মুহূর্তে দিল্লিতে রয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি অধীরের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছেন, শনিবার নিজেই উপস্থিত হবেন অধীরের বাসভবনে। ওইদিন তাঁদের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হতে চলেছে। ভিনরাজ্যে বাংলাদেশি সন্দেহে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার লাঘব করতে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান কী পরামর্শ দেন, সেদিকে নজর থাকবে।
