সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রেসক্রিপশনে তাঁরা 'আরএক্স' লেখেন। মোটা বেতনের চাকরিও করেন। কিন্তু হাতে থাকে 'আরডিএক্স', অর্থাৎ বিস্ফোরক। উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরাই দিনে দিনে সমাজবিরোধী এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছেন। দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে এ কথাই বললেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
গত বছর নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তাতে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনায় যাঁরা ধরা পড়েছেন, তদন্তে দেখা গিয়েছে, তাঁরা অনেকেই পেশায় চিকিৎসক। সেই সূত্রেই রাজনাথ বলেন, "দেশে হোয়াইট কলার সন্ত্রাসবাদের প্রবণতা ধীরে ধীরে বাড়ছে। দিল্লির বোমা বিস্ফোরণের দোষীরা পেশায় চিকিৎসক। যাঁরা প্রেসক্রিপশনে আরএক্স লেখেন। কিন্তু তাঁদের হাতে থাকে আরডিএক্স। শিক্ষার উদ্দেশ্য পেশায় সাফল্য নয়, চরিত্রের বিকাশ।"
প্রসঙ্গত, দিল্লির বিস্ফোরণকাণ্ডের ঠিক আগে হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছিল। ওই দুই ঘটনার সঙ্গেই বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের যোগ পাওয়া যায়। তার পর থেকেই চিকিৎসকদের নিয়ে তৈরি জঙ্গিদের একটি মডিউল তদন্তকারীদের নজরে ছিল। ফরিদাবাদ ‘মডিউল’-এর যাঁরা ধরা পড়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে প্রথম গ্রেপ্তার হন কাশ্মীরের অনন্তনাগের বাসিন্দা চিকিৎসক আদিল আহমেদ রাথর।
সেই সূত্র ধরেই কাশ্মীরের শ্রীনগর, অনন্তনাগ, শোপিয়ানে তল্লাশি চালানো হয়। এ ছাড়া, হরিয়ানা পুলিশের সহযোগিতায় ফরিদাবাদে এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সহযোগিতায় সাহারানপুরেও হানা দিয়েছিলেন কাশ্মীরের তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, আদিলকে জেরা করেই পুলওয়ামার বাসিন্দা মুজ়াম্মিল শাকিল গণির নাম উঠে আসে। পেশায় চিকিৎসক মুজ়াম্মিল কর্মসূত্রে হরিয়ানার ফরিদাবাদে থাকতেন ভাড়া বাড়িতে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের দাবি, তাঁর সাহায্যেই কাশ্মীর থেকে ফরিদাবাদে বিস্ফোরক নিয়ে যান আদিল। তদন্তকারীদের অভিযানের সময়ে একটি গাড়ি থেকে একে-৪৭ পাওয়া গিয়েছিল। সেই গাড়িটি ছিল চিকিৎসক শাহীন শাইদের নামে। তিনিও কর্মসূত্রে থাকতেন ফরিদাবাদেই।
