সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অপারেশন সিঁদুরের সময় কাবুল সফরে গিয়েছিলেন ভারতের প্রতিনিধি আনন্দ প্রকাশ। এরপর পাকিস্তানের চাপ বাড়িয়ে ভারতে আসেন আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। সেই সময়েই মনে করা হচ্ছিল, তালিবানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে পারে ভারত। অবশেষে, ভারত থেকে মুছে গেল আসরফ গনি সরকারের শেষ চিহ্ন। তালিবান ক্ষমতা দখলের পর প্রথমবার ভারতে কোনও কূটনৈতিক পদে নিযুক্ত করা হল। নূর আহমেদ নূরকে এই দিল্লিতে নিযুক্ত করা হয়েছে। এরপরেই প্রশ্ন উঠছে, ইসলামাবাদ-সাংহাইয়ের জোড়া ফলা সামলাতে এবার কী তাহলে তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দেবে দিল্লি?
অপারেশন সিঁদুরে সরাসরি ভারতের পাশে দাঁড়ায় আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। পাশাপাশি, জয়শংকরের সঙ্গে বৈঠকের পরে সাংবাদিক সম্মেলন করে আমির বলেন, "নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আমাদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমরা আফগানিস্তানের ভূখণ্ডকে কোনও দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেব না। উভয়পক্ষই এই বিষয়ে যোগাযোগ রাখবে।" এবার, এই বন্ধুত্বেরই প্রতিদান দিচ্ছে ভারত। দিল্লিতে, আফগান হাই কমিশনে নিযুক্ত হলেন নতুন রাষ্ট্রদূত। নূর আহমেদ নূর। বিশেষজ্ঞদের ধারণা ইসলামাবাদ এবং সাংহাইকে একযোগে বার্তা দিল দিল্লি।
তালিবানের সঙ্গে নূরের যোগাযোগ অনেকদিনের। দ্বিতীয়বার ক্ষমতা দখলের পরে, আফগানিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকে প্রথম রাজনৈতিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নূর আহমেদ নূর। নতুন পদে কাজ শুরু করতে ইতিমধ্যেই ভারতে পৌঁছেছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে তালিবানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে হাঁটতে পারে ভারত। কারণ ভারতের উপর চাপ বাড়াতে একদিকে আমেরিকা ও অন্যদিকে চিনকে হাত করেছে পাকিস্তান। এই অবস্থায় ইসলামাবাদের শত্রু তালিবানের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়িয়ে পাকিস্তানকে চাপে রাখা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রচেষ্টা শুরু হয়। ২০ ডিসেম্বর, আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, মৌলবি নূর জালাল জালালি বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কে 'অবনতি' হওয়ায় আফগানিস্তানের ওষুধের চাহিদা পূরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প ভারত।
মুত্তাকির ভারত সফরের পড়েই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হয়। ভারত এখনও তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি না দিলেও মুত্তাকির সফরে জয়শংকরের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে ভারত নয়াদিল্লিতে আফগান দূতাবাসের জন্য তালিবান নিযুক্ত কূটনীতিকদের গ্রহণ করতে রাজি হয়।
আফগান নাগরিকরা এখন চিকিৎসা এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। ২০২৩ সালের এপ্রিলে, তালিবান সরকার দিল্লিতে চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স হিসেবে একজন কূটনীতিককে পাঠানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এখানকার দূতাবাসের কর্মীরা তাঁকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। এর পরে, ইকরামউদ্দিন কামিলকে মুম্বইয়ে তাদের কনস্যুলেটে নিয়োগ করে তালিবানরা।
তালিবান শাসনের আগে গনি সরকারের সময় নিযুক্ত মহম্মদ ইব্রাহিমখিল দিল্লিতে চার্জ ডি'অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এতদিন। এবার গনি সরকারের শেষ চিহ্ন মুছে গেল দিল্লির বুক থেকে।
