মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের (Ajit Pawar Death) যে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল, সেটির অপারেটর সংস্থা ভিএসআর ভেঞ্চারস (ভিএসআর অ্যাভিয়েশন)-এর সঙ্গে বিজেপির ‘প্রভাবশালী’ নেতাদের যোগ রয়েছে। শনিবার একটি সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই দাবি করলেন অজিতের ভাইপো তথা এনসিপি বিধায়ক (শরদ পওয়ার গোষ্ঠী) রোহিত পওয়ার। তাঁর আশঙ্কা, গোটা তদন্ত প্রক্রিয়াই প্রভাবিত হতে পারে। এরপরই বারামতী দুর্ঘটনার সুবিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাহায্য চেয়েছেন রোহিত।
এদিন রোহিত বলেন, “এই ঘটনার দু’টি সম্ভাব্য দিক থাকতে পারে। রাজনৈতিক অথবা বাণিজ্যিক। এর নেপথ্যে কারা জড়িত রয়েছে, তা আমরা নির্ধারণ করার চেষ্টা করছি। কিছু মানুষ যাঁরা তদন্তকে প্রভাবিত করছেন।” তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন রোহিত। তাঁর দাবি, বিমানটির যে ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) ছিল, তার কাজের ক্ষমতা মাত্র ৩০মিনিট ছিল। কিন্তু ডিজিসিএ-র নিয়ম অনুযায়ী, সেটির কাজ করার ক্ষমতা ২ ঘণ্টা হওয়া উচিত। রোহিতের প্রশ্ন, নিয়ম না মানা সত্ত্বেও কীভাবে বিমানটি নিবন্ধিত হল? তিনি আরও বলেন, "দুর্ঘটনার শেষ ৩০ মিনিট আগে কী ঘটেছিল, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেবল সিভিআর-এর মাধ্যমেই এটি সম্ভব। বলা হচ্ছে, সিভিআর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু আমরা এটা বিশ্বাস করি না। রেকর্ডিং থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে।" রোহিতের কথায়, "দুর্ঘটনার পর একাধিক বিস্ফোরণ হয়েছিল। বিমান পরিচালনাকারীর বহু ত্রুটি রয়েছে। বিমানের ভিতর একটি স্থানে একটি জায়গা আছে অতিরিক্ত পেট্রোলের ক্যান রাখা হয়েছিল। এর জেরেই অগ্নিকাণ্ডের রূপ আরও ভয়াবহ হয়।"
উল্লেখ্য, অজিতের বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে তা হল, ২৮ জানুয়ারি সকাল ৮টা নাগাদ রওনা দিয়েছিল বিমানটি। যাত্রার প্রথম দিকে সব কিছুই স্বাভাবিক ছিল। ১০ মিনিটের মধ্যেই বিমানটি প্রায় ছ’কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছে যায় এবং তার গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১০৩৬ কিলোমিটার। উড়ানের ২৪ মিনিট পর কিছু সময়ের জন্য বিমানটি নজরদারি সঙ্কেত পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিল। কয়েক মিনিট পরে আবার সেই সঙ্কেত ফিরে এলেও সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে বিমানটি পুরোপুরি নিশ্চুপ হয়ে যায়। ওই সময়েই ঘটে দুর্ঘটনা। ভেঙে পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে বিমানের উচ্চতা নেমে এসেছিল প্রায় ১০১৬ মিটারে এবং গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২৩৭ কিলোমিটার, যা অবতরণের সময় স্বাভাবিক বলে ধরা হয়।
