ভাষা বিতর্কের অবসান ঘটাতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাই মাতৃভাষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। হিন্দির পাশাপাশি দেবনগরী ভাষার উপর গুরুত্ব দেওয়ার আবেদন করলেন তিনি। ভাষা ও লিপি নিয়ে কোনও ধরনের দ্বন্দ্ব যাতে না হয়, এ ব্যাপারে তিনি সব রাজ্যের কাছে আবেদন করেছেন। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার আগরতলায় পূর্ব, উত্তর-পূর্ব ও উত্তর অঞ্চলের জন্য যৌথ আঞ্চলিক রাজভাষা সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। যৌথ সম্মেলনে পূর্ব অঞ্চল (পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড), উত্তর-পূর্ব অঞ্চল (ত্রিপুরা, অসম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম) এবং উত্তর অঞ্চল (উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, রাজস্থান, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ)-এর কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তর, ব্যাঙ্ক এবং উদ্যোগগুলির ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা অংশগ্রহণ করেন। রাজভাষা নীতির কার্যকর বাস্তবায়নকে আরও সুদৃঢ় করা এবং সরকারি কাজকর্মে হিন্দির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়াই এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যৌথ আঞ্চলিক রাজভাষা সম্মেলনের তাৎপর্য বিস্তারিত উল্লেখ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় ভাষার সংরক্ষণ ও প্রসার জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে সংস্কৃতির ভাণ্ডার হিসাবে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় দপ্তর, ব্যাঙ্ক এবং উদ্যোগকে রাজভাষা বাস্তবায়নে উৎকৃষ্ট কর্মদক্ষতার জন্য পুরস্কৃত করা হয়। একই সঙ্গে উৎকৃষ্ট কাজ করা নগর রাজভাষা বাস্তবায়ন কমিটিগুলিকে ‘নারাকাস রাজভাষা সম্মান’ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বি সঞ্জয় কুমার, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দি বিভাগীয় প্রধান ড: মিলন রানি জামাতিয়া, নাগাল্যান্ডের নাগরি লিপি পরিষদের চেয়ারপার্সন ড. বি. পি. ফিলিপ। স্বাগত ভাষণ দেন কেন্দ্রীয় রাজ ভাষা বিভাগের সচিব অংশুলি আর্য। উপস্থিত ছিলেন সাংসদ বিপ্লবকুমার দেব, রাজীব ভট্টাচার্য ও কৃতি দেবী দেববর্মা ও রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
