প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের পাশেই ঘিঞ্জি বস্তি। নোংরা সেই বস্তিতে অস্বস্তি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির! সম্প্রতি কেন্দ্রের তরফে নোটিস জারি করা হয়েছে এই সব বস্তিবাসীদের উঠে যাওয়ার জন্য। ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে অবস্থিত ৩টি বস্তির ৭১৭ জন পরিবারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৬ মার্চের মধ্যে ঘর খালি করে দেওয়ার।
দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবন লোক কল্যাণ মার্গের কাছে অবস্থিত এই বস্তিগুলি। এই ৩টি বস্তির নাম ভাই রাম ক্যাম্প, মসজিদ ক্যাম্প ও ডিআইডি ক্যাম্প। তিনটি বস্তির বাসিন্দাদেরই উচ্ছেদের নোটিস দিয়েছে কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনস্থ ল্যান্ড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস। নোটিসে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী ৬ মার্চের মধ্যে যদি ঘর খালি না করা হয় তাহলে বস্তিবাসীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। তবে পরিবারগুলিকে উচ্ছেদ করলেও তাঁদের পুনর্বাসন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে নগরোন্নয়ন পর্যদের তরফে।
হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী ৬ মার্চের মধ্যে যদি ঘর খালি না করা হয় তাহলে বস্তিবাসীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
কেন্দ্র জানিয়েছে, ওই পরিবারগুলির জন্য ফ্ল্যাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সেই ফ্ল্যাট বর্তমান জায়গা থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে সাভদা ঘেভরা এলাকায়। এখানেই আপত্তি এলাকাবাসীদের। বস্তিবাসীদের অভিযোগ, বর্তমানে এই এলাকায় তাঁদের বাস এখানেই তাঁদের কর্মক্ষেত্র। সেখান থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে যদি তাঁদের ঠেলে দেওয়া হয় তবে তাঁদের রুজি-রুটির কী হবে অত দূর থেকে কীভাবে কাজ করবেন তাঁরা? এর অবশ্য কোনও সদুত্তর মেলেনি সরকারের তরফে।
তবে এই বস্তিবাসীদের নোটিস পাঠানোর ঘটনা এই প্রথমবার নয়, এর আগে ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর এই তিন বস্তির বাসিন্দাদের উচ্ছেদের নোটিস পাঠিয়েছিল সরকার। যার বিরুদ্ধে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন বাসিন্দারা। ওই বছরের ১৩ নভেম্বর আদালত সরকারের কাছে জবাব তলব করে। স্পষ্ট জানানো হয়, উপযুক্ত পদ্ধতি না মেনে বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করা যাবে না। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি আদালতের কাছে আরও চার সপ্তাহ সময় চায় কেন্দ্র। আগামী ১৩ মে এই মামলার পরবর্তী শুনানি। তার আগে ফের উচ্ছেদের নোটিস পাঠাল কেন্দ্র।
