রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ উঠেছিল কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় রাহুলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবিতে আদালতে দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। সেই মামলায় শুক্রবার স্বস্তি পেলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। আবেদন খারিজ করে এলাহাবাদ হাই কোর্টের তরফে জানানো হল, 'আদর্শগত বিরোধিতা ও বিদ্রোহে উসকানি দেওয়ার মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে।'
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালে। এক দলীয় কার্যালয় উদ্বোধনের সময় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল বলেছিলেন, "আমরা বিজেপি আরএসএস এবং ভারত সরকারের বিরুদ্ধে লড়ছি।" ভারত সরকারের বিরুদ্ধে লড়ার এই দাবি নিয়ে বিতর্ক চরম আকার নেয়। রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের আবেদন জানিয়ে এলাহাবাদ হাই কোর্টে আবেদন করেন সিমরন গুপ্তা নামে এক মহিলা। তাঁর যুক্তি ছিল, রাহুলের মন্তব্য সারা দেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। উনি যে মন্তব্য করেছেন তা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানি মূলক মন্তব্য দেশকে অশান্ত করার চেষ্টা।
এলাহাবাদ হাই কোর্টের বিচারপতি বিক্রম ডি চৌহান বলেন, "সরকারের কাজ বা নীতির সমালোচনা করা গণতন্ত্রে শুধু অনুমোদিত নয়, বাধ্যতামূলকও। ফলে সমালোচনা বা মতপার্থক্য কোনও অপরাধ হতে পারে না।"
শুক্রবার এই মামলার শুনানিতে এলাহাবাদ হাই কোর্টের বিচারপতি বিক্রম ডি চৌহান বলেন, "সরকারের কাজ বা নীতির সমালোচনা করা গণতন্ত্রে শুধু অনুমোদিত নয়, বাধ্যতামূলকও। ফলে সমালোচনা বা মতপার্থক্য কোনও অপরাধ হতে পারে না।" আদালত আরও জানায়, এখানে নির্বাচিত প্রতিনিধি কোনো নির্দিষ্ট নীতি বা মতাদর্শের বিরুদ্ধে লড়াই করার অঙ্গীকার প্রকাশ করছেন। ফলে এটিকে বিদ্রোহে উসকানি বলে দাগিয়ে দেওয়া যায় না। এপ্রসঙ্গে সংবিধানের ধারাও উল্লেখ করেন বিচারপতি।
উল্লেখ্য, এর আগে রাহুলের বিরুদ্ধে সম্ভল আদালতে এই মামলা দায়ের করেছিলেন আবেদনকারী সিমরন গুপ্তা। তবে রাহুলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের আর্জি খারিজ করে দিয়েছিল আদালত। এরপর সম্ভল আদালতকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এলাহাবাদ হাই কোর্টে আবেদন করেন ওই মহিলা। ৮ এপ্রিল বিচারপতি বিক্রম ডি চৌহান আবেদনকারীর আইনজীবী এবং রাজ্য সরকারের আইনজীবীর যুক্তি শোনার পর তাঁর আদেশ সংরক্ষিত রেখেছিলেন। শুক্রবার মামলার শুনানিতে পুরোপুরি খারিজ করে দেওয়া হল রাহুলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের আবেদন।
