বেশ কয়েকদিন আগেই তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন পাঁচ বিধানসভার ভোটের পরই কোপ পড়তে চলেছে মধ্যবিত্তর পকেটে। হু হু করে বাড়তে পারে পেট্রল-ডিজেল, রান্নার গ্যাসের দাম। সেই ভবিষ্যদ্বাণী হুবহু মিলল। ভোটগ্রহণের পরই একধাক্কায় প্রায় হাজার টাকা বাড়ানো হল বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম। তারপরই ফের সোশাল মিডিয়ায় মোদি সরকারকে তোপ দাগলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ঘুরিয়ে তাঁর দাবি, গ্যাসের বর্ধিত দাম নির্বাচনের খরচ জোগানোর জন্য।
বস্তুত, ভোট মিটতেই জ্বালানির দাম বাড়ানো শুরু করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। প্রথম কোপটা এসেছে বাণিজ্যিক গ্যাসের উপর। ১০০-২০০ টাকা নয়, একধাক্কায় সিলিন্ডারপিছু ৯৯৩ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম। এখানেই শেষ নয়, দাম বাড়ানো হয়েছে অটোর এলপিজিরও। একধাক্কায় ৬ টাকা ৪৪ পয়সা দাম বেড়েছে অটোর জ্বালানির। রাহুল গান্ধীর দাবি, এটাই প্রথম কিস্তি। এরপর আবারও জ্বালানির উপর কোপ পড়বে।
সোশাল মিডিয়ায় তিনি পোস্ট করলেন, 'আগেই বলেছিলাম ভোটের পরই মূল্যবৃদ্ধির কোপটা পড়বে। আজ বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ৯৯৩ টাকা বেড়ে গিয়েছে। এটাই ইতিহাসে একদিনে সর্বাধিক মূল্যবৃদ্ধি। এটাই তো ভোটের খরচের বিল।" লোকসভার বিরোধী দলনেতার দাবি, ফেব্রুয়ারি থেকে স্রেফ ৩ মাসে বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বেড়েছে ১ হাজার ৩৮০ টাকা। প্রায় ৮১ শতাংশ। এরপর চাওয়ালা, ধাবার মালিক, হোটেল, বেকারি, মিষ্টির দোকান, যেখানে যেখানে রান্না হয়, সব মালিকেরা সমস্যা পড়বেন। এটার প্রভাব পড়বে আমাদের খাবারের থালাতেও।"
বিরোধী দলনেতা সাফ বলে দিচ্ছেন, প্রথম কোপটা এল গ্যাসের উপর। এরপর ধাক্কা আসবে পেট্রল ও ডিজেলের উপর। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, মোদি সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে রাহুলের করা বহু ভবিষ্যদ্বাণী অতীতে মিলেছে। এবারও যদি তেমনটা হয়, তাহলে সেটা আমজনতার জন্য মোটেই সুখবর নয়। এমনিতেই মূল্যবৃদ্ধির চাপে সংকুচিত আমজনতা। সেই চাপ আরও বাড়তে পারে।
