প্রাক্তন সেনা সর্বাধিনায়ক বিপিন রাওয়াত, গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি, মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার। মাঝ আকাশের দুর্ঘটনায় গত কয়েক বছরে একাধিক ভিভিআইপিকে হারিয়েছে দেশ। সেই ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে এবার বিমান সংস্থাগুলিকে একগুচ্ছ নির্দেশিকা পাঠাল ডিজিসিআই।
ডিরেক্টর জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশনের তরফে বিমান সংস্থাগুলির উদ্দেশে সাফ বার্তা পাঠানো হয়েছে, কোনওভাবেই ভিভিআইপিদের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা যাবে না। পাইলট বা উড়ানের সঙ্গে যুক্ত কারও উপর ‘অযৌক্তিক চাপ’ তৈরি করা যাবে না। শুধু তাই নয়, ভিভিআইপিদের বিমানে কোনওভাবেই অনভিজ্ঞ পাইলট বা ক্রুদের কাজ করানো যাবে না। ভিভিআইপি যাত্রী বহনকারী নন-শিডিউলড বিমানের পাইলট-ইন-কমান্ডের ন্যূনতম ৩,০০০ ঘণ্টার উড়ানের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। একই ভাবে হেলিকপ্টারের ক্ষেত্রে এই অভিজ্ঞতা হতে হবে অন্তত ২,০০০ ঘণ্টা।
ডিজিসিএ-র নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যপাল-সহ ভিভিআইপি যাত্রী বহনকারী বিমানের পাইলট, কো পাইলট বা ফ্লাইট ক্রুদের এমন কোনও পরিস্থিতিতে ফেলা যাবে না যাতে বিমানের নিরাপত্তা কোনওভাবে বিঘ্নিত হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। ভিভিআইপি যাত্রীর চাহিদা মেনে যদি শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হয় তাহলেও সেটা সরাসরি ক্রুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে না। সেজন্য সংস্থার ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। নির্বাচনী উড়ানের ক্ষেত্রে প্রতিটি অপারেটরকে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নিয়োগ করতে হবে, যিনি পুরো প্রক্রিয়ার দেখভাল করবেন। ভিভিআইপি উড়ান বা হেলিকপ্টারের ক্ষেত্রে ওড়ার আগে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষানিরীক্ষা করতে হবে।
বাংলা-সহ চার রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনের আগে এই নির্দেশিকা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সদ্যই খারাপ আবহাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উড়ান প্রায় ঘণ্টা দেড়েক মাঝ আকাশে চক্কর কেটেছে। আবার আবহাওয়ার জন্য সমস্যা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিমানেও। এই ধরনের পরিস্থিতিতে পাইলটের দক্ষতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্যই এই নির্দেশিকা।
