বিহারে পায়ের তলার মাটি খানিকটা শক্ত হতেই বাংলার রাজনীতিতে 'অনুপ্রবেশের' চেষ্টা শুরু করেছেন হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে জোট করে এ রাজ্যে বেশ কয়েকটি আসনে লড়াই করবে AIMIM। তবে শুধু বাংলাতেই থামা নয়, এবার অসমের দিকেও নজর দিচ্ছেন মিম প্রধান ওয়েইসি। তবে আসাম বিধানসভা নির্বাচনের জন্য তাঁর কৌশল খানিকটা আলাদা।
বাংলায় যেমন হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরাসরি ভোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মিম, অসমে তেমন নয়। সে রাজ্যে এখনই প্রার্থী দেবেন না ওয়েইসি। আপাতত সে রাজ্যে সংগঠনের কাজ শুরু করাটাই লক্ষ্য AIMIM-এর। তবে অসমের ভোটে প্রচারে নামবেন ওয়েইসি। তিনি প্রচার করবেন সে রাজ্যের সংখ্যালঘুদের আরেক দল বদরউদ্দিন আজমলের এআইইউডিএফের হয়ে। ইতিমধ্যেই দুই দলের মধ্যে প্রাথমিক কথাবার্তা হয়ে গিয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী মাসের শুরুতেই অসমে আজমলের দলের হয়ে ভোট চাইবেন ওয়েইসি।
জানা গিয়েছে, বাংলার মতো আসন ভাগাভাগি না করে অসমের কোটিপতি আতর ব্যবসায়ী বদরুদ্দিনের হয়ে প্রচার করবেন জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ ওয়েইসি। আগামী ২ এবং ৩ এপ্রিল ওয়েইসি অসমে এআইইউডিএফ প্রার্থীদের সমর্থনে একাধিক জনসভায় ভাষণ দেবেন। তার মধ্যে রয়েছে বদরুদ্দিন আজমলের কেন্দ্র, হজোই জেলার বিন্নাকান্দিও।
ওয়েইসি অসমের রাজনীতিতে পা রাখার সিদ্ধান্ত নিতেই সেই পুরনো ভীতি মাথাচাড়া দিচ্ছে বিরোধী শিবিরে। কংগ্রেস বহুদিন ধরেই ওয়েইসিকে 'বিজেপির বি টিম' বলে আসছে। এবার সেই বি টিম যদি অসমেও পা রাখে তাহলে সংখ্যালঘু ভোট ভাগাভাগীর আশঙ্কা বেড়ে যায়। সেটা হলে আসলে বিজেপি তথা এনডিএর সুবিধা। যদিও আজমলের যে এলাকায় প্রভাব রয়েছে সে এলাকায় বিজেপি বিশেষ ফ্যাক্টর নয়। তাঁর সরাসরি লড়াই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। ফলে ওয়েইসি অসমে পা রাখলে কংগ্রেস দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
