ভারতে ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ তৈরির ষড়যন্ত্র! দমদম বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার কুখ্যাত মার্কিন 'ভাড়াটে' সৈনিক ম্যাথু ভ্যানডাইক। গত ১২ মার্চ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। পাশাপাশি, উত্তরপ্রদেশের লখনউ বিমানবন্দর থেকে তিন ইউক্রেনীয় এবং দিল্লি বিমানবন্দর থেকে আরও তিন ইউক্রেনীয়কেও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, ধৃতরা প্রত্যেকেই ম্যাথুর সহযোগী। একইসঙ্গে তাঁরা একাধিক জঙ্গি প্রশিক্ষণ চক্রের সঙ্গেও জড়িত ছিল বলে খবর।
কিন্তু কে এই ম্যাথু? ২০১১ সালে তাঁর নাম প্রকাশ্যে আসে। লিবিয়া এবং সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে তিনি যোগ দিয়েছিলেন। সেখানকার বিদ্রোহী সংগঠনগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশগুলির সরকার ফেলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন ম্যাথু। কিন্তু গৃহযুদ্ধ চলাকালীন ২০১১ সালে লিবিয়ায় মুয়াম্মার গদ্দাফির শাসনকালে তিনি গ্রেপ্তার হন। ছিলেন যুদ্ধবন্দি হিসাবে। কিন্তু ছ'মাস কাটতে না কাটতেই নিখুঁত পরিকল্পনা করে তিনি জেল ভেঙে পালান। এরপর তিনি চলে আসেন সিরিয়াতে।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ম্য়াথু একজন তথ্যচিত্র নির্মাতাও ছিলেন। ২০১৪ সালে ত্রিবেকা চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর তথ্যচিত্র ‘পয়েন্ট অ্যান্ড শুট’ সেরা তথ্যচিত্রের পুরস্কার জেতে। তবে লিবিয়া ছোড়ে সিরিয়াতে গিয়েও তিনি বেশি দিন আত্মগোপন করে থাকতে পারেননি। সিরিয়ার আসাদ সরকার তাঁকে 'জঙ্গি' ঘোষণা করে। এর কয়েকদিন পরই ম্য়াথু সিরিয়া ছেড়ে ইরাকে চলে আসেন। সেখানেই তিনি তাঁর সংগঠন 'সনস অফ লিবার্টি ইন্টারন্য়াশনাল' (সোলি)-এর প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠন বিভিন্ন দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইকারী গোষ্ঠীগুলির প্রশিক্ষক হিসাবে পরিচিত। সূত্রের খবর, ২০২২ সালে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধেও ম্য়াথু এবং তাঁর সংগঠন পরোক্ষভাবে যোগ দিয়েছিল। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে সেনা ভাড়া দেওয়া থেকে শুরু করে ইউক্রেন সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ - গোটা দায়িত্বে ছিলেন ম্যাথু।
ম্য়াথু একজন তথ্যচিত্র নির্মাতাও ছিলেন। ২০১৪ সালে ত্রিবেকা চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর তথ্যচিত্র ‘পয়েন্ট অ্যান্ড শুট’ সেরা তথ্যচিত্রের পুরস্কার জেতে।
ভারতে ম্যাথুর গ্রেপ্তারি ঘিরে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ, সূত্রের দাবি, তিনি আমেরিকার তথাকথিত 'ডিপ স্টেট'-এর সঙ্গে যুক্ত। ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলে ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ তৈরির ভয়ংকর ষড়যন্ত্র করেছিলেন তিনি। প্রসঙ্গত, মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ম্য়াথুর সংগঠনই উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছিল, ভারতে খ্রিস্টানদের উপর যথেচ্ছ নিপীড়ন চলছে। উল্লেখ্য, ম্যাথুর ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ তৈরির ষড়যন্ত্র নিয়ে সতর্ক করেছিলেন খোদ বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। সূত্রের খবর, ম্যাথু এবং তাঁর সংগঠন জঙ্গিদের প্রশিক্ষণও দিতেন।
ম্যাথু ভ্যানডাইক (গাড়ির মাথায় বসে)। ছবি: রয়টার্স।
তদন্তকারীদের একটি সূত্রের খবর, গত ডিসেম্বর মাসে ম্যাথু-সহ ৭ জন টুরিস্ট ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। মূলত অসম, মিজোরাম-সহ উত্তর-পূর্ব ভরতের বিভিন্ন রাজ্যে তারা যাতায়াত করেছিলেন। এখানেই শেষ নয়, ভারতকে রক্তাক্ত করতে তাঁরা বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনগুলিকে প্রশিক্ষণও দিয়েছিলেন বলে খবর। তার মধ্যে ছিল ড্রোন হামলা চালানোর কৌশল, বেআইনি ভাবে সীমান্ত পারাপার ইত্যাদি। সূত্র মারফত আরও জানা যাচ্ছে, ম্যাথু এবং সহযোগীরা মায়ানমারেও গিয়েছিলেন। সেখানে জুন্টা সরকার-বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে অস্ত্র ব্যবহার এবং ড্রোন পরিচালনার প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। তদন্তকারীদের মতে, এই ধরনের কার্যকলাপ ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
