মেঘালয়ের তাসখাই অঞ্চলের কয়লাখনিতে বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮-তে। আহত ৮। তবে মনে করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে। ঘটনাস্থলে এখনও উদ্ধারকার্য চালাচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। সেনা ও বায়ুসেনাকেও ঘটনাস্থলে ডাকা হয়েছে। জানা গিয়েছে ওই কয়লাখনি অবৈধ। র্যাট-হোল পদ্ধতিতে কয়লা খনন করা হচ্ছিল সেখান থেকে। গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিন দুর্ঘটনার পর থেকেই খনির মুখে কালো ধোঁয়া বেরতে শুরু করে। বাইরে থাকা শ্রমিকরা মুহূর্তে ভিড় জমায় খনির বাইরে। সেখানে কয়েকজন মহিলা ও শিশুকে দেখা যায়। জানা যায়, বিস্ফোরণ ঘটেছে খনির ভিতরে। ঘটনার পরই দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে দেয় মেঘালয় পুলিশ। উপস্থিত হয় দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলার কর্মীরাও। মৃত শ্রমিকদের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে শোকপ্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি সরকারি তত্ত্বাবধানের ব্যর্থতায় এভাবে বেআইনি কাজ চলছিল কীভাবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
জানা গিয়েছে, ওই অবৈধ কয়লা খনিতে র্যাট-হোল পদ্ধতিতে খনন চলছিল। স্থানীয় ও পরিযায়ী, দুই ধরনের শ্রমিকই কাজ করছিলেন। একদশকেরও বেশি সময় আগে ওই পদ্ধতি বেআইনি ঘোষিত হওয়ার পরও রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে এই ভাবে খনন চলছে বলেই দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
ঘটনাটি নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার বিকাশ কুমার জানিয়েছেন, ডিনামাইট বিস্ফোরণের পর খনির ভেতরে কার্বন মনোক্সাইড ও মিথেনের মতো বিষাক্ত গ্যাস ভর্তি হয়ে গিয়েছে বলেই আশঙ্কা। তাছাড়া দুর্বল দৃশ্যমানতা, অন্ধকার এবং ভূগর্ভের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়।
কী এই র্যাট-হোল মাইনিং?
কয়লা উত্তোলনের এই বেআইনি পদ্ধতিতে খুব ছোট ছোট উল্লম্ব গর্ত খোঁড়া হয়। সেগুলির প্রস্থ সাধারণত তিন থেকে চার ফুটের বেশি হয় না। খনি শ্রমিকরা যখন কয়লার স্তরে পৌঁছান, যা মেঘালয়ে সাধারণত ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকে, তখন তাঁরা কয়লা তোলার জন্য অনুভূমিক সুড়ঙ্গ খনন করেন নিজেরাই।
সুড়ঙ্গগুলি প্রায়শই একজন মানুষের প্রবেশের মতো। সাধারণত ‘ইঁদুরের গর্ত’ বলা হয় সাদৃশ্যের জন্য। এই সুড়ঙ্গগুলো থেকে তোলা কয়লা খনির মুখের কাছে স্তূপ করে রাখা হয় এবং পরে সড়কপথে পরিবহন করা হয়। মানবজীবনের গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ, পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতিকর, ভূগর্ভস্থ জল দূষণ ইত্যাদি কারণ দেখিয়ে এই পদ্ধতিতে উত্তোলন করা কয়লার পরিবহনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
