একযোগে মোট ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে SIR শুরু করেছিল নির্বাচন কমিশন। প্রায় প্রতিটি রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া শেষদিকে। ব্যতিক্রম শুধু উত্তরপ্রদেশ। সে রাজ্যে এখনও শুনানি পর্বের অনেকটাই বাকি। আবার নতুন ভোটারের নাম তোলার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হতে সময় লাগবে। সেসব ভেবে রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমা আরও একমাস বাড়িয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। আগামী ৬ মার্চ পর্যন্ত যোগীরাজ্যে খসড়া ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন, বিয়োজন এবং সংশোধন করা যাবে।
SIR-এ বাংলায় বাদ যাবে কোটির বেশি মানুষের নাম। কারণ রাজ্য নাকি ‘অনুপ্রবেশকারী’তে ছেয়ে গিয়েছে। ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর আগে এমনটাই দাবি করেছিল বিজেপি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বাংলায় যে পরিমাণ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে তার চেয়ে শতাংশের বিচার বেশি নাম বাদ যাচ্ছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেই। যার জলজ্যান্ত উদাহরণ উত্তরপ্রদেশ। সে রাজ্যে ভোটার তালিকার খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছে ২ কোটি ৮৯ লক্ষ মানুষের নাম। এর বাইরে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি এবং নো ম্যাপিংয়ের জন্য আরও ৩.২৬ কোটি মানুষকে নোটিস দেওয়া হবে। স্রেফ নো ম্যাপিংয়ের সংখ্যাটা ২ কোটি ২০ লক্ষের বেশি।
খোদ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ আগেই মেনে নিয়েছেন, যে ভোটারদের নাম বাদ পড়তে চলেছে তাদের বেশিরভাগটাই বিজেপির। এমনকী এত নাম যাতে বাদ না যায়, সেটা নিশ্চিত করার জন্য দলীয় কর্মীদের নির্দেশও দেন তিনি। কিন্তু তাতেও বিশেষ লাভ হয়নি। কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন বিজেপি এবার টার্গেট নিয়েছে লোকসভা পিছু অন্তত ২ লক্ষ ভোটারের নাম নতুন করে তোলার। সেই মতো কাজও চলছে। দৈনিক লক্ষাধিক ফর্ম ৬ জমা পড়ছে নির্বাচন কমিশনে। কিন্তু লক্ষ্যপূরণের সময় কোথায়? খানিক চিন্তাতেই ছিল বিজেপি।
কিন্তু সেই চিন্তা অনেকাংশে দূর করে দিল নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকায় নাম তোলার নাম তোলার বা সংশোধন করার জন্য আরও একমাস সময় দেওয়া হল। আগামী ৬ মার্চ পর্যন্ত। কমিশন জানাচ্ছে, দৈনিক ৫ লক্ষ পর্যন্ত ফর্ম ৬ জমা পড়ছে। এই ফর্ম সিক্স জমা পড়ার পরিমাণটা দেখেই কমিশন সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, ৬ মার্চ পর্যন্ত নাম তোলা যাবে। ২৭ মার্চ পর্যন্ত চলবে শুনানি। ১০ এপ্রিল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। বিজেপির আশা, এই সময়সীমার মধ্যেই নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ করে ফেলবে তারা।
