সাময়িক সংঘর্ষবিরতি হলেও যুদ্ধ পুরোপুরি থামেনি মধ্যপ্রাচ্য। এর মধ্যেই চলতি সপ্তাহে আরব আমিশাহী সফরে যাচ্ছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর, এমনটাই সূত্রের খবর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। মাসাধিককাল পেরিয়েছে সংঘাত। সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর কোনও ভারতীয় মন্ত্রীর এটিই প্রথম সফর। উল্লেখ্য, পালটা হামলায় আরব আমিরশাহীর মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে ইরান। এই অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সফরে কেন জয়শংকর?
সূত্রের খবর, আগামী ৯ থেকে ১২ এপ্রিলে মধ্যে মরিশাস এবং আরব আমিরশাহীতে যাবেন বিদেশমন্ত্রী। প্রথম মরিশাসের ইন্ডিয়ান ওসান কনফারেন্সে যোগ দেবেন তিনি। এর পরে যাবেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশে। মনে করা হচ্ছে, দেশের জ্বালানি সংকট সামাল দিতেই আরবের দেশটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন জয়শংকর। বুধবারই দুই সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতি ঘোষণা করেছে আমেরিকা-ইরান। এই ঘোষণার ঘণ্টা কয়েক বাদেই বিদেশমন্ত্রীর আমিরশাহী সফরের বিষয়টি পাকা হয় বলে খবর।
ভারতীয় সময় বুধবার ভোরে সংঘর্ষ বিরতি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিন সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প লেখেন, ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং পাক সেনা সর্বাধিনায়ক আসিম মুনিরের দেওয়া একটি প্রস্তাব আমি গ্রহণ করেছি। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, দু’সপ্তাহের জন্য ইরানের সঙ্গে আমরা যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছি। পরিবর্তে হরমুজ প্রণালী খুলে দেবে তেহরান।’ ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছনোর জন্য আগামী দু’সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, “ইরানের জারি করা ১০ দফা শর্ত আমাদের কাছে আসে। আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনার জন্য এই প্রস্তাব একটা ভিত্তি হতে পারে।”
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী দু’সপ্তাহ আমেরিকা ইরানে কোনও রকম সামরিক অভিযান চালাবে না। অন্যদিকে, শর্তসাপেক্ষে হরমুজ মুক্ত করবে ইরান। সূত্রের খবর, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে বৈঠকে বসবে দুই দেশ। এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইজরায়েলও সম্মতি জানিয়েছে বলে খবর। উল্লেখ্য, ইরান আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত হলে তবেই তারা হরমুজ পুরোপুরি মুক্ত করা হবে। সাময়িক যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে নয়।
ইরানের তিন কর্তাকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায় ছিল পাকিস্তান। কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু জটিলতা। এদিকে ট্রাম্পের সময়সীমাও ছিল শেষের পথে। অন্তিমলগ্নে চিনের হস্তক্ষেপে পাক প্রস্তাবে রাজি হয় ইরান এবং আমেরিকা। ইরানের নয়া সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই যুদ্ধবিরতিতে অনুমোদন দেন।
