নীতীশ কুমার ইস্তফা দিয়েছেন। বিহারে এবার কুরসি দখল করার পথে বিজেপি। প্রথমবার পাটলিপুত্রের কুরসিতে বসতে চলেছেন গেরুয়া শিবিরের কোনও নেতা। এখানেই শেষ নয়, বিজেপি যেভাবে এগোচ্ছে তাতে আগামী দিনে জেডিইউয়ের সমর্থন ছাড়াই বিহারে সংখ্যাগরিষ্ঠতাও জোগাড় করে ফেলতে পারে গেরুয়া শিবির।
আসলে সদ্য বিহারে (Bihar) যে রাজ্যসভা নির্বাচন হয়েছে তাতে কংগ্রেসের ৬ বিধায়কের ৩ জন বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। সূত্রের খবর, তাঁরা এবার সোজা বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। আসলে কংগ্রেস বিধানসভায় মাত্র ৬ আসন জেতার পর এতটাই বিমর্ষ যে, বিধায়ক দলের নেতা পর্যন্ত নির্ধারণ করতে পারেনি। ফলে কংগ্রেসের কোনও বিধায়ক যদি দলবদল করেন, তাহলে দলত্যাগবিরোধী আইনে পড়তে হবে না। শোনা যাচ্ছে, এই সুযোগ নিয়ে শুধু ওই ৩ বিধায়ক নয়, আরও একজন কংগ্রেস বিধায়ক সরাসরি বিজেপিতে নাম লেখাতে পারেন।
এখন চারজন কংগ্রেস বিধায়ক যদি দলবদল করে বিজেপিতে যান, তাহলে বিহারের রাজনীতি অনেকাংশে বদলে যাবে। সেক্ষেত্রে বিজেপির জেডিইউ নির্ভরতা আরও অনেকটা কমে যাবে। এমনকী তেমন পরিস্থিতি হলে জেডিইউকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েও সরকার টিকিয়ে রাখতে পারবে গেরুয়া শিবির। আসলে ২০২৫ বিধানসভার ফল অনুযায়ী, বিহারে বিজেপির দখলে রয়েছে ৮৮ আসন। জেডিইউের দখলে ৮৫ আসন। চিরাগ পাসওয়ানের এলজেপির (আর) দখলে ১৯ আসন। জিতন রাম মাঝিঁর হামের দখলে ৫ এবং উপেন্দ্র কুশওয়াহার আরএলএমের দখলে ৪ আসন। সব মিলিয়ে জেডিইউ-কে ছাড়াই বিজেপির হাতে রয়েছে ১১৬ বিধায়কের সমর্থন। সেই সঙ্গে কংগ্রেসের ৪ বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিলে সংখ্যাটা পৌঁছে যাবে ১২০-তে। বিহারে ম্যাজিক ফিগার ১২২। অর্থাৎ আর দু'জন বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করতে পারলেই প্রথমবার নীতীশ কুমারের দলকে ছাড়াই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যাবে গেরুয়া শিবির। দুই বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করাটা বিজেপির জন্য অন্তত বিরাট কোনও ব্যাপার নয়।
২০২৫ বিধানসভার ফল অনুযায়ী, বিহারে বিজেপির দখলে রয়েছে ৮৮ আসন। জেডিইউের দখলে ৮৫ আসন। চিরাগ পাসওয়ানের এলজেপির (আর) দখলে ১৯ আসন। জিতন রাম মাঝিঁর হামের দখলে ৫ এবং উপেন্দ্র কুশওয়াহার আরএলএমের দখলে ৪ আসন। সব মিলিয়ে জেডিইউ-কে ছাড়াই বিজেপির হাতে রয়েছে ১১৬ বিধায়কের সমর্থন।
তাহলে কি বিহারে পরবর্তী যে সরকার গঠন হতে চলেছে, সেই সরকার থেকে নীতীশ কুমারকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হবে? না, এখনই তেমন সম্ভাবনা নেই। কারণ বিহারে বিজেপি স্বাবলম্বী হয়ে গেলেও কেন্দ্রে এখনও বিজেপির সরকার চলছে জেডিইউয়ের সমর্থনেই। তবে, বিহারে বিজেপির এই শক্তিবৃদ্ধি তাদের জেডিইউ নির্ভরতা অনেকটা কমাল। ফলে বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বাছাই, এবং মন্ত্রিসভার বণ্টনের ক্ষেত্রে জেডিইউয়ের মতামতকে আর সেভাবে গুরুত্ব দিতে বাধ্য থাকবে না গেরুয়া শিবির।
