বিরোধীদের প্রবল আপত্তি। প্রস্তাবিত বিদেশি অনুদান সংশোধনী বিল বুধবার সূচি মতো পেশই করল না মোদি সরকার। ওই আইনটিকে সংখ্যালঘু বিরোধী তকমা দিয়ে সেটি নিয়ে প্রবল আপত্তি জানায় বিরোধী শিবির। যার জেরে এদিন দফায় দফায় উত্তপ্ত হয় লোকসভার অধিবেশন। শেষ পর্যন্ত আর বিলটি পেশ করা হয়নি।
আসলে মোদি সরকারের প্রস্তাবিত ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন সংশোধনী বিল ২০২৬ (FCRA Amendment Bill 2026) নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। বিলটির খসড়া প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সেটির কয়েকটি ধারা নিয়ে জোরালো আপত্তি তুলেছে বিরোধী দলগুলি। ওই বিলটির কয়েকটি ধারায় প্রবল আপত্তি বিরোধীদের। বিলটিতে বলা হয়েছে, কোনও সংস্থা একবার বিদেশি অনুদান পাওয়া বন্ধ করে দিলে সেই সংস্থার বিদেশি বিনিয়োগ থেকে যা সম্পত্তি রয়েছে, সেগুলি আর ব্যবহার করতে পারবে না। সেগুলি নির্দিষ্ট একটি সংস্থার মারফৎ চলে যাবে কেন্দ্রের হাতে।
শুধু তাই নয়, প্রস্তাবিত বিলে বলা আছে, কেন্দ্র চাইলে সব সংস্থাকে বিদেশি বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত টাকা খরচ করার সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে। শুধু তাই নয়, কোনও সংস্থা যদি বিদেশি বিনিয়োগের লাইসেন্স নবীকরণের আবেদন না করে, বা সরকার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাহলে ওই সংস্থার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। আসলে FCRA লাইসেন্স ব্যবহার করেই বিদেশ থেকে অনুদান নেয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো। তবে কেন্দ্রের সবুজ সংকেত ছাড়া বিদেশি অনুদান গ্রহণ করা যায় না। ২০১০ সালের ফরেন কনট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্টের আওতায় রেজিস্ট্রেশন করতে হয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোকে। প্রতি বছর ওই বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়ার লাইসেন্স যাচাই করা হয়। প্রতি বছর কোনও না কোনও সংস্থার লাইসেন্স বাতিলও করা হয়। নতুন বিল অনুযায়ী কারও লাইসেন্স বাতিল হয়ে ওই সংস্থা আগে যা অনুদান পেয়েছে সবটাই সরকারের খাতায় চলে যাবে।
কংগ্রেস ও সিপিএমের দাবি ওই আইন সংখ্যালঘু বিরোধী। কারণ বহু খ্রিস্টান এবং মুসলিম স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিদেশি অনুদানে পুষ্ট। সেই বিদেশি অনুদান বন্ধ করা এবং সংস্থাগুলিকে কব্জা করার উদ্দেশ্যেই এই বিল। বিরোধীদের প্রবল আপত্তিতে বিলটি বুধবার পেশ করা হয়নি। যদিও সরকারের দাবি, সিপিএম এবং কংগ্রেস এই এফসিআরএ নিয়ে ভুয়ো তথ্য দিচ্ছে। যদিও কেন্দ্রের দাবি, বিদেশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে মাও অধ্যুষিত এলাকায় অনুদান পাঠানো হচ্ছে, তাতে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ইন্ধন পাচ্ছে মাওবাদীরা। তাছাড়া বিদেশ থেকে আসা অনুদান ব্যবহার করা হচ্ছে ধর্মান্তকরণের কাজে।
