আরও গতি পেল দিল্লির যন্তরমন্তরে পড়ুয়াদের আন্দোলন (CJP Protest)। এবার ছাত্রদের সমর্থনে এগিয়ে এলেন সমাজকর্মী আন্না হাজারে (Anna Hazare)। পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছিলেন আন্না। এবার তিনি নিজেই মৌন আন্দোলন শুরু করলেন।
স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণআন্দোলনগুলির একটি ২০১১ সালের আন্না আন্দোলন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লোকপাল আইন কার্যকর করার দাবিতে দিল্লির যন্তরমন্তরে তাঁর অনশন তৎকালীন ইউপিএ সরকারের ভিত নাড়িয়ে দেয়। পরে ২০১৪ সালে কংগ্রেস সরকারের পতনের নেপথ্যে আন্নার সেই আন্দোলনকে দায়ী করেন অনেকে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর গত ১২ বছরে খুব বেশি মুখর হয়ে আন্দোলনে দেখা যায়নি ৮৯ বছরের সমাজকর্মীকে। বরং অধিকাংশ ইস্যুতে ঘুরিয়ে সরকারের পাশে দাঁড়ানোরই চেষ্টা করেন তিনি। তবে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ককরোচদের আন্দোলনে পড়ুয়াদের পাশেই দাঁড়ালেন তিনি।
মৌন আন্দোলনে আন্না। ছবি: সোশাল মিডিয়া।
বুধবারই আন্না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লেখেন। সেই চিঠিতে তিনি বলেন, "শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের অতর্কিত বলপ্রয়োগ এবং হিংসার ঘটনা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। গণতন্ত্রে সহিংসতা, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট এবং অহেতুক পুলিশি বলপ্রয়োগের কোনও স্থান নেই। সরকারের উচিত পড়ুয়াদের দাবির পিছনের সামাজিক যন্ত্রণা ও প্রত্যাশা বোঝার চেষ্টা করা।" আন্নার সাফ কথা, "গণতন্ত্রে সহিংসতার কোনও জায়গা নেই। আলোচনার কোনও বিকল্প নেই। সরকারের উচিত ছাত্রছাত্রী ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলা।" আন্নার বক্তব্য, "একজন মন্ত্রীর ইস্তফা গ্রহণ করলে সরকার পড়ে যাবে না। বরং মন্ত্রীদের উদ্দেশে বার্তা যাবে যে ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করলে সবার পদ যেতে পারে।"
শুধু প্রধানমন্ত্রীকে ওই বার্তা পাঠিয়েই ক্ষান্ত হননি আন্না। নিজেও পড়ুয়াদের সমর্থনে প্রতীকী আন্দোলন করেছেন। জানা গিয়েছে, মহারাষ্ট্রের আহিল্যনগরে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে বৃহস্পতিবার ২ ঘণ্টার প্রতীকী মৌন আন্দোলন করেছেন আন্না। সকাল ১১টা থেকে একটা পর্যন্ত দুঘণ্টার মৌন ব্রত পালন করেন। এরপর সরকার দাবি না মানলে আরও বড় আন্দোলনে নামতে পারেন তিনি।
